সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে জুলাই অভ্যুত্থানে তার ভূমিকা তদন্তের দাবি এনসিপির
সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, 'সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধু ফ্যাসিবাদের একজন আইকনই নন, তিনি একজন লুটেরা। জুলাইয়ে ঠিক কত জায়গায় তিনি গণহত্যার সঙ্গে শামিল হয়েছিলেন, তা তদন্ত করতে হবে।'
রোববার (২৬ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত 'বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ'- শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আখতার হোসেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, 'সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ব্যাংক লুট করেছেন। ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলমের হাতে তুলে দিয়েছেন। বিদেশে বাড়িঘর করেছেন এবং বিদেশের একটি স্থায়ী রেসিডেন্সি নিয়েছেন। এ ধরনের একজন ব্যক্তির রাষ্ট্রপতির পদে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই।'
তিনি বলেন, '৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, তা নিয়েও সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। একবার বলেছেন, তার কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়া হয়েছে। আবার বলেছেন, পদত্যাগপত্র দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, তিনি স্পষ্ট মিথ্যাচার করেছেন।'
এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, 'সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কোনোভাবেই রাষ্ট্রপতির পদে থাকতে পারেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আমরা তাকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিলাম। তখন আমাদের সাংবিধানিক সংকটের কথা বলা হয়েছিল।'
তিনি বলেন, 'নির্বাচিত সরকারকেও আমরা একই কথা বলেছি। তখন আর সাংবিধানিক সংকটের কথা থাকার কথা নয়। কিন্তু এরপরও সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দিয়ে সংসদে বক্তৃতা দেওয়ানো হয়েছে, যা মহান সংসদকে কলঙ্কিত করেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিএনপির সঙ্গে ইন্টারনাল নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পরও একটি সময় পর্যন্ত সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দায়িত্বে রাখা হয়েছিল। এখন তাকে একটি সেফ এক্সিট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।'
আখতার হোসেন বলেন, 'গণহত্যার সময় কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির জায়গা থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু চাইলে তা নিবৃত্ত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।'
তিনি বলেন, 'তার অতীতের অপকর্ম এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের বিষয়গুলোও সামনে এসেছে। আমরা জেনেছি, লন্ডনে গিয়েও তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এসব ভূমিকার কারণে তাকে এখন আইনের আওতায় আনতে হবে।'
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দীন সঞ্চালনা করেন। এতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও সারোয়ার তুষার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানসহ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
