নেচার ইনডেক্সে দেশের গবেষণা তালিকায় শীর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজ্ঞানবিষয়ক খ্যাতনামা সাময়িকী 'নেচার'-এর সর্বশেষ প্রকাশিত সূচকে (নেচার ইনডেক্স) বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থান লাভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সর্বশেষ এই সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রকাশিত মোট গবেষণা নিবন্ধের সংখ্যা ১৪৩টি। এর মধ্যে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২১টি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বের ১৭৮টি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণাপত্রের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নেচার ইনডেক্সের এই সূচক প্রণয়ন করা হয়েছে।
নেচার ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪টি দেশের মধ্যে গবেষণায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫৪তম। গত বছর এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৬১তম। ফলে এক বছরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এই সূচকে সাত ধাপ এগিয়েছে। তবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ আগেরবারের মতো এবারও ১৩তম অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'নেচার ইনডেক্সে দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই অর্জন প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'
অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, 'একবিংশ শতাব্দীর জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বে গবেষণাই উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের প্রধান চালিকাশক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়নসহ সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণার বিকল্প নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানসৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অগ্রগতিতে আরও কার্যকর অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
