চট্টগ্রামে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মা-মেয়েকে কুপিয়ে জখম
বিশ্বকাপ ফাইনালের স্পেন ও আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে হামলায় মা-মেয়েসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের মওলার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ- স্থানীয় মোরশেদুল আলমের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।
ঘটনার পর গুরুতর আহত ময়রা খাতুন (৫৫) ও তার মেয়ে রাবিয়া খাতুনকে (১৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি।
আহতদের স্বজনরা জানান, স্পেন ও আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে স্থানীয় যুবক রাকিবের সঙ্গে মোরশেদুল ইসলামের এক অনুসারীর কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে সোমবার সকালে মোরশেদুল ইসলাম ও তার ভাই হাবিবের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল রাকিবের বাড়িতে যায়। এ সময় প্রতিবেশী ময়রা খাতুন ও তার মেয়েসহ কয়েকজন বাঁধা দিতে গেলে তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা করা হয়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন।
আহতদের প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। ময়রা খাতুন ও তার মেয়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ময়রা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, "আমার মা ও বোন কোনো পক্ষের ছিল না। প্রতিবেশীকে বাঁচাতে গিয়ে তারা হামলার শিকার হয়েছে। দা-কুড়াল দিয়ে তাদের মাথা, কপাল ও মুখে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই।"
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন। এমনকি অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন, যেন মামলা না করা হয়। তবে থানায় মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছে ভুক্তেভোগী পরিবারটি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম ও তার ভাই হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
তিনি বলেন, "ঘটনায় দুই থেকে তিনজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন চিকিৎসাধীন আছেন।"
তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
