জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে ধরা পড়া ৪ ভুয়া নিয়োগপ্রার্থী কারাগারে
প্রক্সি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়ে যোগদানপত্র দাখিল করতে এসে ফেস ভেরিফিকেশনে ধরা পড়া ৪ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর শাহবাগ থানায় প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জোনাইদের আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাদের জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামীকাল দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন—মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলিম (২৮), মো. আলী হায়দার (২৯) এবং মো. মাসুদ ফকির (৩১)।
এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. আবদুল গাফফার (হিমেল)।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন আক্তার ও মো. মনির হোসাইন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামীকাল জামিন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
গতকাল বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে সচিবালয় থেকে তাদের আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৫ মে অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের ২০টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর প্রেক্ষিতে গত ১৯ জুন লিখিত এবং ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ৬ জুলাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদান করে গত রোববার সকাল ১০টার মধ্যে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে যোগদানপত্র দাখিল করতে বলা হয়।
নির্ধারিত সময়ে আসামিরা সচিবালয়ে যোগ দিতে এলে তাদের চেহারা ও উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হয়। তখন মৌখিক পরীক্ষার সময় ক্যামেরায় তোলা ছবির সঙ্গে তাদের চেহারা মেলানো (ফেস ভেরিফিকেশন) হয়। এ সময় চেহারায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা স্বীকার করেন যে, মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তায় পরীক্ষা সম্পন্ন করে তারা এই নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
