সময় টিভির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত
সময় টেলিভিশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য পরিচালকদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সাবেক এর পরিচালক আহমেদ জুবায়েরের দায়ের করা একটি প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল (কোয়াশ) করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী ৪ আগস্ট এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে সময় টেলিভিশন লিমিটেডের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।
শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, সময় টেলিভিশনের পক্ষে আহমেদ জুবায়ের 'সানী চৌধুরী' নামের একজনকে 'লেটার অব অথরিটি' দিয়ে কোম্পানির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। নিম্ন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরোয়ানাও (ওয়ারেন্ট) জারি করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সময় টেলিভিশন লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেয়, তারা এই মামলাটি পরিচালনা করবে না।
তিনি আরও বলেন, আহমেদ জুবায়ের এই মামলা দায়ের করেছেন সময় টেলিভিশনের পক্ষে, অথচ সময় টেলিভিশন লিমিটেড তাকে কোনো ধরনের লেটার অব অথরিটি দেয়নি কিংবা কোনো মামলা করার জন্য ক্ষমতা (পাওয়ার) প্রদান করেনি। ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি সময় টেলিভিশনের নামে মামলা করেছেন।
আইনজীবী শিশির মনির জানান, কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো ক্ষমতা না দেওয়া সত্ত্বেও মামলা দায়ের হওয়ার পর সময় টেলিভিশন লিমিটেড নিম্ন আদালতে গিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার আবেদন করে। কিন্তু নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন। পরে নিম্ন আদালতের সেই আদেশ ও সার্বিক পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ (এ) ধারায় হাইকোর্টে আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি।
হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, দরখাস্ত শুনানি শেষে আজ আদালত কেন এই ফৌজদারি কার্যক্রমকে বাতিল বা কোয়াশ করা হবে না—এই মর্মে রুল দিয়েছেন। একই সঙ্গে এক মাসের জন্য স্থগিতাদেশ (স্টে) দিয়েছেন।
কোম্পানির যথাযথ অনুমোদন বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সিদ্ধান্ত ছাড়া এভাবে মামলা দায়ের করাকে বেআইনি দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, 'তাহলে যে কেউ কোম্পানির পক্ষে যেকোনো সময়, যার ইচ্ছা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবেন। এটি আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।'
উল্লেখ্য, এর আগে সময় মিডিয়ার ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন বিল আত্মসাতের অভিযোগে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার সিএমএম আদালত। সময় টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক আহমেদ জুবায়ের বাদী হয়ে এই প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলাটি করেছিলেন।
গত ৭ জুলাই আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দিয়েছিলেন। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শম্পা রহমান, সাবেক পরিচালক মোর্শেদুল ইসলাম, সাবেক হেড অব মার্কেটিং মো. আহসানুল ইসলাম এবং সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকা। হাইকোর্টের আজকের এই স্থগিতাদেশের ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ মামলার পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি আপাতত স্থগিত থাকবে।
