জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক নগর পরিকল্পনার তাগিদ প্রকৌশলীদের
টানা ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়ণের কারণে দেশের অবকাঠামো ও নগর ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও গবেষণার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রকৌশলী ও শিক্ষাবিদেরা।
গতকাল রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত "অ্যানুয়াল পেপার মিট অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (এপিএমসিই) ২০২৬"-এর সমাপনী অনুষ্ঠান ও সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারের মূল বিষয়বস্তু ছিল "ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যা সাসটেইনেবল ফিউচার: দ্য রোল অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইন এচিভিং দ্য ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস"। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী প্রকৌশলীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিলে হবে না, দীর্ঘমেয়াদি ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নদী, খাল, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ রক্ষা করে উন্নয়ন করা গেলে– জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। দেশের নদীগুলোতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি নিয়মিত ড্রেজিং ও আধুনিক নদী ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেন।
ডুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. আবু তায়েব বলেন, গবেষণার ফলাফল শুধু একাডেমিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে– সরকারি নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের গবেষণা সম্মেলন নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে।
আইইবির সম্মানীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সামনে এনেছে। তিনি বলেন, কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাজধানীর যান চলাচল, শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রামে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।
ঢাকার জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে তিনি খাল দখল, জলাভূমি ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ড্রেনে বর্জ্য জমে যাওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। তার মতে, নগরীর বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় এখনও অপর্যাপ্ত।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. এস এম আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুযোগ নষ্ট করা যাবে না।
তিনি টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশবান্ধব নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, শক্তি সাশ্রয়ী ভবন, উন্নত গণপরিবহন ও কম কার্বন প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত সংকট মোকাবিলায় প্রকৌশল গবেষণা এবং সরকারি নীতিনির্ধারণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। এ সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
