বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন, ওষুধ ও সাপের বিষের প্রতিষেধক মজুতের নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
দেশের বন্যা কবলিত জেলা ও উপজেলাগুলোতে মেডিকেল টিম গঠন, জরুরি ওষুধ ও সাপের বিষের প্রতিষেধক মজুদ রাখা এবং দ্রুত এলাকার মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উক্ত অনলাইন সভায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন ও পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন), পরিচালক (প্রশাসন), বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সব জেলার সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখতে বন্যাগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগে একজন করে ফোকাল পারসন নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই ফোকাল পারসনদের মুঠোফোন নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও অংশীজনদের কাছে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
পাশাপাশি, স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত অবগতির লক্ষ্যে ফোকাল পারসনদের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং ও প্রেস নোট জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিত জানাতে আগামী সোমবার (১২ জুলাই) একটি জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়েরও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বন্যা কবলিত এলাকায় জরুরি ওষুধ, খাবার স্যালাইন, আইভি স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।
বন্যার সময় সাপের কামড়ের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, বন্যাগ্রস্ত সব উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সাপের বিষের প্রতিষেধক মজুদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত সরবরাহের প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রয়োজনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা এবং এ লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা সেবা সচল রাখতে বন্যা কবলিত এলাকার সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এমনকি জরুরি সেবা বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলেরও কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
সারাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকেরা এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করবেন বলে জানায় অধিদপ্তর৷
