জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করল সরকার, দায়িত্বে যুক্ত হলেন যারা
জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় ঔষধ নীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের বিকাশ, অপরিহার্য ঔষধের তালিকা প্রণয়ন এবং ঔষধ আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত নীতিমালায় পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পরিষদের কাজের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।
ঔষধ ও প্রসাধনী আইন, ২০২৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী পরিষদটি পুনর্গঠন করে গত সোমবার একটি গ্যাজেট প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
পুনর্গঠিত এই পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান, অর্থ সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষাবিদদের প্রতিনিধি এবং এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি (বাপি) ও বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সভাপতিগণ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই পরিষদ জাতীয় ঔষধ নীতি বাস্তবায়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে এবং দেশের মানুষের জন্য ঔষধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় ঔষধ শিল্পকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করবে।
পরিষদটি অ্যালোপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক্যাল, ভেষজ এবং ভেটেরিনারি (পশুচিকিৎসা) ঔষধসহ অপরিহার্য ঔষধের জাতীয় তালিকা তৈরি ও সংশোধনের সুপারিশ করবে। এই অপরিহার্য ঔষধের তালিকাটি প্রতি দুই বছর পর পর আপডেট বা হালনাগাদ করা হবে।
ঔষধ ও ঔষধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও রপ্তানি সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারিশ করার পাশাপাশি ঔষধ খাতের সাথে জড়িত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে এই পরিষদ। প্রয়োজনে জরুরি যেকোনো ঔষধ সংক্রান্ত বিষয়েও সরকারকে পরামর্শ দিতে পারবে এই পরিষদ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই উপদেষ্টা পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার বৈঠকে বসবে। তবে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভাও আহ্বান করা যেতে পারে। এছাড়া প্রয়োজনে যেকোনো সদস্যকে কমিটিতে কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে।
নতুন এই প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা পূর্ববর্তী গ্যাজেট প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
