দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধের মাধ্যমে এ বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে: সংসদে মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই। দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধের মাধ্যমে এ বৃহৎ বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।'
আজ শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ায় দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে রাজস্ব সাশ্রয় করে বৃহৎ বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।'
প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটকে 'মানুষের জীবনের বাজেট' আখ্যায়িত করে বলেন, 'নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে, ফলে বাজেট ঘোষণার পর বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি। খাদ্যপণ্য, কৃষিপণ্য, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল, চিনি, মসলা, শাকসবজি, দুধসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর রেয়াত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।'
স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, 'হৃদরোগের রিং, ডায়ালাইসিস এবং ওষুধ শিল্পের ১৭টি কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে, যার ফলে চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং জনগণ সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাবে।'
তিনি বলেন, 'নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাজেটে কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা এবং প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে ১২ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।'
নিজ মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, 'স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য ৪০ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে আগামী অর্থবছরে ৫ হাজার কিলোমিটার নতুন পাকা সড়ক নির্মাণ, ৯ হাজার কিলোমিটার সড়ক সংস্কার, ২৩ হাজার মিটার সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ, ৩৫টি উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ, ৫৫টি সাইক্লোন সেন্টারের উন্নয়ন, ১১০টি হাটবাজার আধুনিকীকরণ, শহরাঞ্চলে ১ হাজার কিলোমিটার সড়ক ও ফুটপাত এবং ৩৯২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হবে।'
এ ছাড়া সারাদেশে ১ লাখ ২০ হাজার নলকূপ স্থাপন, পৌর এলাকায় ২৬০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ, ৮০ হাজার স্যানিটারি ল্যাট্রিন এবং ২৫০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ৩ হাজার ২০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সরকারের ঘোষিত অঙ্গীকার অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও বাজেটে রাখা হয়েছে।'
বগুড়া জেলায় অতিরিক্ত উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—বিরোধী দলের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মীর শাহে আলম বলেন, 'গত কয়েক মাসে এলজিইডির সর্বোচ্চ বরাদ্দ গেছে কুমিল্লা, নরসিংদী ও বাগেরহাটে। বগুড়া বরাদ্দের তালিকায় ১৬তম অবস্থানে রয়েছে। তাই বগুড়াকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তথ্যভিত্তিক নয়।'
তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন বগুড়া উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। এখন অতীতের সেই ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে।'
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।' তিনি প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
