আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ, ইন্টার্নশিপ নিয়ে বিপাকে মেডিকেল কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীরা
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে যাদের ইন্টার্নশিপ চলছিল, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছেন।
ইন্টার্নশিপ ব্যাহত হলে নিজ দেশে ফিরে তাদের পেশাগত নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় ২০ সদস্যের একটি বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রতিনিধিদল সোমবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে গিয়ে সমাধান চেয়েছে। তবে তাদেরকে তাৎক্ষণিক কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়নি।
ভারত ও মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত প্রতিনিধিদলটি আদ-দ্বীন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়।
স্মারকলিপিতে তারা বলেন, বর্তমানে আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ২০৯ জন ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর থেকে এসেছেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে চিকিৎসাশিক্ষার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বছর সম্পন্ন করেছেন। তারা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ৩২ জন কাশ্মীরি শিক্ষার্থীর অবস্থা নিয়ে, যারা বর্তমানে এই হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করছেন। তারা সফলভাবে একাডেমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে নিবন্ধন ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর এসব শিক্ষার্থী নিজ দেশে ফিরে গিয়ে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করতে চান। তবে ভারতে চিকিৎসা স্নাতকদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুযায়ী, ইন্টার্নশিপ অবশ্যই একই প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে হয়, যেখানে চিকিৎসাশিক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে আংশিক এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে আংশিক ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন হলে তা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে স্বীকৃত নাও হতে পারে।
বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসক ইলিয়াস মানসুর সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের দেশে এক প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষ করে অন্য প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করার অনুমতি নেই। তাই আমাদের এই বিশেষ পরিস্থিতি মানবিকভাবে বিবেচনা করার জন্য স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।"
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ-দ্বীন হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
