প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর: আরসিইপিতে যোগদান, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে গুরুত্ব দেবে ঢাকা
বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য জোট 'রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ' (আরসিইপি)-তে যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরতে আগামীকাল মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের প্রথম পর্যায়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং শ্রমবাজার সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এসব তথ্য জানান। এসময় অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (জননীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার বিষয়) এ কে এম শহীদুল করিমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, আসিয়ানের (দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা) 'সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার' হওয়ার আবেদন এবং আরসিইপি-তে বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষা এই সফরে জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়াসহ আসিয়ান সদস্য দেশগুলো যাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, সে বিষয়েও আহ্বান জানানো হবে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
সফরসঙ্গী ও প্রতিনিধিদল
প্রধানমন্ত্রীর এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রতিনিধিদলের আকার ছোট রাখা হয়েছে; মালয়েশিয়া সফরে ২৭ জন এবং চীন সফরে ২৮ জন সদস্য থাকছেন।
সফরের সূচি ও আলোচ্য বিষয়
সফরের প্রথম দিন (২১ জুন) মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। পরদিন ২২ জুন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠক (ওয়ান-টু-ওয়ান) অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, পেশাজীবী নিয়োগ, কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হবে।
চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক
সফরে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে 'টার্মস অফ রেফারেন্স' বিনিময় হতে পারে। আরও কিছু দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নথিপত্র বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠকে বসতে পারেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি এই সফর মালয়েশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে ঢাকা আশাবাদী।'
প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল (২১ জুন) বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং সেখান থেকে সোমবার (২২ জুন) বিকেলে চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন।
