দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায় একদল লোক, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে একদল লোক।
তিনি বলেন, "তারা যদি দেশে অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে পারব না, কৃষক কার্ড বিতরণ করতে পারব না। জনগণকে যে সহযোগিতা আমরা করছি, তা অব্যাহত রাখতে পারব না। তাই তাদের ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।"
বুধবার দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ ষড়যন্ত্র করে টিকতে পারবে না। কেউ গণতন্ত্রকে নষ্ট করতে পারবে না। স্বাধীনতার আগে ও পরে সব সময় গণতন্ত্র বিনষ্টকারীরা একসঙ্গে ছিল। কিন্তু বিএনপি সব সময় জনগণের পাশে ছিল।
তিনি বলেন, "আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, এটাই বিএনপির রাজনীতি। বাজেটে আমরা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। লেখাপড়া ও খেলাধুলার জন্য বরাদ্দ বাড়িয়েছি। সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। জনগণের কথা চিন্তা করে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করেছি। অথচ অনেকে বলেছে, তারা এই বাজেট মানে না। এই বাজেট নাকি চানাচুরের মতো।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "যে বাজেট জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের বাজেট, যে বাজেটে জনগণের জন্য নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেই বাজেটকে যারা চানাচুরের মতো বলে, গণবিরোধী বলে—তারা কি জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।"
যতবার দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে এবং মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে, ততবারই বিএনপিকে ভোট দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জনগণ যখন গণতন্ত্রের জন্য ফুঁসে উঠেছে, তখন বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে দেখেছি। কিন্তু খালেদা জিয়া কখনো জনগণকে ছেড়ে যাননি। আমরা খালেদা জিয়ার সৈনিক। এই দেশই আমাদের ঠিকানা। আমরা এই দেশের উন্নয়নে কাজ করছি।"
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের অর্থের উৎস নিয়ে তিনি বলেন, "কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। তারা বলে, ফ্যামিলি কার্ডের টাকা, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আমরা আপনাদের সাক্ষী রেখে বলতে চাই—এগুলো জনগণের অর্থ।"
তিনি বলেন, "অতীতে একটি দল জনগণের টাকা জনগণকে না দিয়ে বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল। আমরা জনগণের অর্থ পাচার হতে দেব না। এই টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে। ফলে টাকার অভাব হবে না।"
যারা অর্থ পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "নির্বাচনের আগে এই সিলেটে এসে আমি কথা দিয়েছিলাম, চা শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড দেব। আজ তা শুরু হলো। আজ আমার আনন্দের দিন। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। যদিও আজ সবাইকে কার্ড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তবে আগামী এক বছরের মধ্যে চা বাগানের সব নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব।"
তিনি বলেন, "আমরা নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাশাপাশি ৫০ জন চা শ্রমিককে ঘর নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চা শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। আজ প্রায় ১৫০ জনকে এ বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ; সবার জন্য বাংলাদেশ।"
