বাজেটকে স্বাগত জানাল বিজিএমইএ; নীতিগত স্থিতিশীলতা, বন্ড ও ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ ৫ দাবি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে সামগ্রিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। তবে বাজেটে পূরণ হয়নি- এমন ৫টি দাবিও বাজেটে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৩ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে নীতিগত স্থিতিশীলতা, কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উৎসাহ, বন্ড ও ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং এসএমই ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কর সুবিধার মতো পদক্ষেপ শিল্প ও বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেবে।
সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও সংস্কারমুখী। তবে তৈরি পোশাক খাতের বিদ্যমান সংকট বিবেচনায় বাজেটে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
তবে সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক মন্দা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পোশাক খাত বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। চলতি অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, ইউনিটপ্রতি গড় মূল্য ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে। গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি জানিয়েছে। এগুলো হলো—
পোশাক রপ্তানির ওপর উৎসে করের হার বর্তমান ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৬৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখা।
নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বর্তমান তারল্য সংকট বিবেচনায় তা সম্পূর্ণ মওকুফ করার দাবি।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সাব-কন্ট্রাক্ট মূল্যের ওপর আরোপিত ১ শতাংশ দ্বৈত উৎসে কর প্রত্যাহার এবং ভ্যাট অব্যাহতি প্রক্রিয়া আরও সহজ করা।
পোশাক খাতের জন্য নির্ধারিত ১২ শতাংশ এবং গ্রিন ফ্যাক্টরির জন্য ১০ শতাংশ করপোরেট করহার যেন অন্য কোনো আয়ের কারণে বৃদ্ধি না পায়, তা নিশ্চিত করা।
এছাড়া ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনা বিবেচনায় পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পিএসএফ), পিভিসি রেজিন ও পিইটি রেজিনের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার।
বিজিএমইএর মতে, এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ এবং কাস্টমস ও বন্দর প্রক্রিয়া আরও সহজ করা জরুরি।
