৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ ও স্টার্টআপ ফান্ড দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইস সেন্টার
দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উদ্যোক্তা সংস্কৃতির বিকাশ এবং স্টার্টআপ কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন, ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ সেন্টার (আইস)। 'ক্রিয়েটিভ বাংলাদেশ' প্রকল্পের আওতায় দেশের সাতটি শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাকে নিবিড় প্রশিক্ষণ, ব্যবসা শুরুর মূলধন এবং পরবর্তী মেন্টরশিপ সহায়তা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে (জি টু জি) পরিচালিত এই প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কোইকা প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে 'ক্রিয়েটিভ বাংলাদেশ' প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ২০২৪ সালে প্রকল্পের টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্স প্রজেক্ট প্রপোজাল জমা দেওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এটি অনুমোদন করে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলমান এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে থাকছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আইস সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, বিজনেস আইডিয়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চারটি ব্যাচে মোট ২০০ জন উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। প্রতিটি ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থী ৩২০ ঘণ্টার নিবিড় প্রশিক্ষণ পাবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হতে পারে। তবে এটি কেবল প্রশিক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সহায়তাও দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা আইস-এর মেন্টরশিপ এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এছাড়া এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি 'উদ্যোক্তা উন্নয়ন রোডম্যাপ' প্রণয়ন করা হবে।
আইস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুর রহমান টিবিএসকে বলেন, "আগামী শতাব্দীর অর্থনৈতিক নেতৃত্ব এশিয়ার হাতেই থাকবে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে উদ্ভাবননির্ভর উদ্যোক্তা সমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকেই যেন উদ্যোক্তা চিন্তার বিকাশ ঘটে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করতে। একই সাথে দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্যোক্তা উন্নয়নের একটি কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চাই।"
প্রকল্পটি নিয়ে শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও অনলাইন পোশাক ব্র্যান্ড 'ড্রেস ট্রেস'-এর পরিচালক তাসনুভা তাবাসসুম সৃষ্টি বলেন, "ফান্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বিজনেস আইডিয়া বা সুন্দর প্রেজেন্টেশন না দেখে যারা আগে থেকেই কাজ করছে, তাদের বাস্তব অবস্থা ও প্রবৃদ্ধি দেখা দরকার। যারা স্ট্রাগল করে বড় হচ্ছে, তাদের সাপোর্ট দিলে বিনিয়োগটি বেশি কার্যকর হয়।"
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পেছনে কারাস ভবনে প্রকল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ চলছে। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই আইডিয়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উদ্যোক্তা নির্বাচনের চূড়ান্ত কাঠামো ঘোষণা করা হবে। প্রকল্পের আওতায় হ্যাকাথন, বুটক্যাম্প ও কর্মশালার মাধ্যমে আরও বেশি তরুণকে এই ধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
