কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ কর ব্যবস্থার ন্যায্যতাকে বিনষ্ট করবে: সিপিডি
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বহাল রাখার সমালোচনা করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সিপিডির মতে, এ ধরনের সুবিধা কর ব্যবস্থার ন্যায্যতাকে ক্ষুণ্ন করে এবং নিয়মিত করদাতাদের প্রতি বৈষম্যমূলক।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, 'আনডিসক্লোজড অর্থাৎ, যেটাকে কালো টাকা বলা হয়; সে কালো টাকা বৈধ করার প্রক্রিয়া বহাল রয়েছে। জমি, ভবন ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনার মতো খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত আয় সাদা করার সুযোগ রয়ে গেছে।'
তিনি বলেন, 'আমরা বরাবরই বলে আসছি, এতে করের ন্যায্যতা ক্ষুণ্ন হয়। যারা নিয়মিত ও সৎভাবে কর দিয়ে আসছেন, তাদের সঙ্গে যারা কর ফাঁকি দিয়েছেন তাদের এক কাতারে দাঁড় করানো হয়। এটি নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং সমাজে একটি মোরাল হ্যাজার্ড তৈরি করতে পারে।'
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি যুক্তিসঙ্গত নয়। অতীতে যতবার কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে সরকারের আয় খুবই কম এসেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এ ধরনের ব্যবস্থা যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ নিয়মিত করদাতারা এতে বৈষম্যের শিকার হন।'
তবে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ কিছু খাতে সরকারের কিছু নীতিমালার কারণে অপ্রদর্শিত অর্থ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।'
তিনি বলেন, 'বিশেষ করে জমির মৌজা মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। এ কারণে অনেক টাকা কালো হয়ে যায়। ঘনঘন মৌজা মূল্য হালনাগাদ করলে জমির কারণে যে কালো টাকা হয়, নীতিমালার দুর্বলতার কারণে এটা বন্ধ করা সম্ভব।'
