সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে ৪ ঘণ্টায় এলো ২৫ হাজার চামড়া, দাম নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ
ঈদুল আজহার প্রথম দিনে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে ২৫ হাজারেরও অধিক কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। শিল্প নগরী ও এর আশপাশে চামড়া প্রবেশ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। তবে আড়তগুলোতে চামড়ার কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
সাভার চামড়া শিল্প নগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, বিকেল ৪টা নাগাদ প্রায় ২৫ হাজার পিস কাঁচা চামড়া শিল্প নগরীতে প্রবেশ করেছে। সময়ের সাথে সাথে এই পরিমাণ আরও বাড়বে। সার্বিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ করছে।
শিল্প নগরীর প্রধান ফটকে দায়িত্বরত কর্মীরা জানান, বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রথম চামড়াবাহী গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ১১০টি ট্রাকে করে ২৫ হাজার ৪৮৩ পিস চামড়া এসেছে। এসব চামড়ার সিংহভাগই রক্তমাখা কাঁচা চামড়া, যা আড়ত ও ট্যানারিতে পৌঁছানোর পরপরই লবণ মাখানোর কাজ শুরু করেছেন শ্রমিকরা।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিনিধি এবং ট্যানারিতে সরাসরি চামড়া নিয়ে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দরের বিষয়ে বড় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে শিল্প নগরী সংলগ্ন অস্থায়ী আড়তগুলোতে চামড়া বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, আড়তদাররা সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কম দাম প্রস্তাব করছেন।
বলিয়ারপুর এলাকা থেকে ৩০ পিস চামড়া নিয়ে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী পরেশ আক্ষেপ করে বলেন, "৭০০ টাকা দরে যে চামড়া কিনেছি, আড়তে এসে সেই চামড়ার দাম বলছে ৬০০ টাকা। লাভ তো দূরে থাক, এভাবে বিক্রি করলে গাড়ি ভাড়াই পকেট থেকে যাবে।"
টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে ২০০ পিস চামড়া নিয়ে আসা এক ব্যক্তি জানান, আড়তে দাম কম বলায় তারা সরাসরি ট্যানারির ভেতরে চামড়া নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে পুরোনো সম্পর্কের সূত্রে দাম নির্ধারণ ছাড়াই চামড়া রেখে যাচ্ছেন, পরে সুবিধাজনক সময়ে দরদাম করে টাকা নেবেন।
চামড়ার দাম কম দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে হেমায়েতপুরের চামড়া আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, "মূল সমস্যা হচ্ছে অর্থসংকট। আমাদের প্রচুর টাকা ট্যানারিগুলোতে বাকি পড়ে আছে। নগদ টাকার প্রবাহ কম এবং ব্যাংক ঋণ সুবিধাও আমরা পাই না। ফলে চামড়া বেশি এলে কেনা কঠিন হয়ে যায়। তবে আমরা চেষ্টা করি সরকার নির্ধারিত মূল্যের আশেপাশে দাম দিতে।"
অন্যদিকে, ট্যানারি মালিকদের মাঝেও চামড়া কেনার ক্ষেত্রে আগের মতো জৌলুস বা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়িক মন্দা, রপ্তানি মূল্যের পতন এবং এলডাব্লিউজি সনদের অভাবে এককভাবে চীন নির্ভরতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজমীর লেদারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, "আমাদের ২০ হাজার পিস চামড়া কেনার লক্ষ্য রয়েছে, যার মধ্যে ৫ হাজার পিস চলে এসেছে। কিন্তু আমাদের কারখানায় এখনো ৫০ হাজার পিসের উপরে পুরোনো স্টক রয়েছে। ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় অনেকের মূলধনই অর্ধেক হয়ে গেছে।"
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক ও সমতা লেদারের মালিক মো. মিজানুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "এ বছর সারাদেশে কমবেশি ১ কোটি পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। এখন পর্যন্ত মার্কেট পরিস্থিতি ভালো। তবে বড় পরিসরে কেনাবেচা সাধারণত রাতে হয়। দিনের বেলা দেখে কেনা গেলেও রাতে দর নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। আশা করছি এবারও সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হবে।"
