ঈদযাত্রা: ঢাকা-ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল মহাসড়কে মানুষের ঢল, বৃষ্টি-বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি
গাজীপুরের প্রধান দুটি মহাসড়কে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী মানুষের ঢলে যানজট ও যানবাহনের ধীরগতি ও থেমে থেমে বৃষ্টিতে মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে।
আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন থেমে থেমে চলছে। এর সঙ্গে ভোররাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়েছে। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ এলাকার যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট্র বিভিন্ন সূত্র জানায়, গতকাল কিছু পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ার পর, আজ বাকি আরো ৪৫ ভাগ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সকাল থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ও গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বিপুলসংখ্যক ঘরমুখো শ্রমজীবী মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। এতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ যেমন বেড়েছে, তেমনি পর্যাপ্ত গণপরিবহন না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। উপায় না পেয়ে অনেকেই বাসের ছাদ, খোলা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে দূরপাল্লার যাত্রা শুরু করেছেন।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় এবং চন্দ্রা থেকে নবীনগর সড়কের জিরানি বাজার এলাকা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
অপরদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী, বোর্ডবাজার, ভোগড়া বাইপাস থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধীরগতিতে গাড়ি চলছে। কোথাও কোথাও কয়েক মিনিট পরপর যানবাহন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ছে।
চন্দ্রা এলাকায় গাড়ীর জন্য অপেক্ষায় থাকা হারুন অর রশিদ নামের এক যাত্রী বলেন, 'স্বাভাবিক সময়ে যে পথ অতিক্রম করতে এক ঘণ্টার মতো সময় লাগে, আজ সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে বাসে বসে থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে সড়কের কিছু অংশে পানি জমে যাওয়ায় গাড়ির গতি আরও কমে গেছে।'
এসবের সাথে বরাবরের মতোই যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। ফলে সাধারণ যাত্রীরা মারাত্মক আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তবে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে পরিবহন চালকদের দাবি ভিন্ন। কয়েকজন চালক জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ফেরার পথে তাদের খালি গাড়ি নিয়ে আসতে হয়, যার কারণে তেলের খরচ পোষায় না। তাছাড়া যানজটে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি জ্বালানি অপচয় হচ্ছে।
মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ, গাজীপুর জেলা পুলিশ, গাজীপুর মহানগর পুলিশ, এপিবিএন, বিজিবি সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সমন্বিতভাবে একযোগে কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, 'ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। তাছাড়া দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও পশুবাহী ট্রাকের চাপ একসঙ্গে বেড়েছে। কোথাও কোনো দুর্ঘটনা বা যানবাহন বিকল হলে আমরা দ্রুত তা সরানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। বৃষ্টি ও অতিরিক্ত গাড়ির চাপের মধ্যেও যান চলাচল সচল রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।'
