চামড়া সংরক্ষণে অন্তত ২০ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী
দেশে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২০ থেকে ২২ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। আগামী বছর চামড়া সংরক্ষণের পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সোমবার (২৫ মে) কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চামড়া খাতের অব্যবস্থাপনা ও মান রক্ষা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'দেশে কোরবানির সময় সংগৃহীত মোট চামড়ার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বি-গ্রেডের হয়ে থাকে। পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর সময় অসতর্কতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয়। এ বছর কতটুকু চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে— তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও আগামী বছর পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২০ থেকে ২২ হাজার মানুষকে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।'
সঠিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, 'কাঁচা চামড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল পণ্য। সময়মতো ও সঠিক পরিমাণে লবণ ব্যবহার না করলে চামড়া দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এই ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে ট্যানারি মালিকরাও বেশি দামে চামড়া কিনবেন। এছাড়া এবার কোরবানিকে ঘিরেও আমরা নানান পরিকল্পনা করেছি।'
কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও কৃষকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, 'দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষির উন্নয়ন ঘটলে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হবে। অতীতে কৃষকরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন কৃষকের নামে ঋণ নিয়ে অন্যরা সেই সুবিধা ভোগ করেছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে কৃষকদের বের করে আনতে কাজ করছে।'
অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাঝে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় ব্যানানা জাতের আমের কলম, ধান কাটার যন্ত্র, ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, এলএলপি এবং হ্যান্ড স্প্রেয়ার বিতরণ করা হয়।
এ সময় কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হানসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
