জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত না করে যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি নয়: শামা ওবায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে চলমান গুঞ্জনের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গেই হোক না কেন—সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যখন নিশ্চিত হবে যে এতে দেশ ও জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত রয়েছে, কেবল তখনই কোনো চুক্তিতে সই করা হবে।
শনিবার (১৮ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে গণমাধ্যমে আসা সংবাদের দিকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, 'প্রতিরক্ষা চুক্তির সিদ্ধান্ত কেবল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আসে না। সংশ্লিষ্ট আরও অনেক সংস্থা রয়েছে যেখানে এ নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই মুহূর্তে বিষয়টি ঠিক কোন পর্যায়ে আছে, তা মন্ত্রণালয় থেকে বলা সম্ভব নয়।'
সম্প্রতি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা দুটি প্রাথমিক চুক্তি জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ) এবং অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, 'আমি আবারও বলছি—যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি কেবল তখনই সই করা হবে, যখন সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হবে যে এটি দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে। এর বাইরে কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।'
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে, 'জিএসওএমআইএ' হলো একটি দ্বিপক্ষীয় সরকারি চুক্তি। এর মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের গোপনীয় সামরিক তথ্য বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পন্ন চুক্তি, যা উভয় দেশকে স্পর্শকাতর সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ করে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মে ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংক্ষিপ্ত সফরে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সফরের অংশ হিসেবে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী সচিব এস পাল কাপুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা নিয়ে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেন তারা। ক্রমবর্ধমান এই সম্পর্কের ধারা বজায় রাখতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপের গুরুত্বের ওপরও তারা জোর দেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক ব্যুরোর (পিআরএম) সহকারী সচিব অ্যান্ড্রু ভেপরেকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দুই পক্ষই একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
