শিশু ধর্ষণের ঘটনায় রণক্ষেত্র চট্টগ্রাম: মামলা দায়েরের পর আদালতে অভিযুক্তের দোষ স্বীকার
চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ বাকলিয়া চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশকে ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা ও সংঘর্ষের ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত মনির হোসেনের (৩০) বিরুদ্ধে গতকাল (২২ মে) মামলা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে আসামি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–১ এর বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শিশুটির পিতা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান মনিরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'ঘটনার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।'
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মেডিকেল ওসিসি প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের তীব্রতার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঘটনার সময় শিশুটির বাবা ঢাকায় ছিলেন এবং মা পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। মা-বাবা ঘরে না থাকায় দম্পতির তিন সন্তান তাদের নানির কাছে ছিল। এই সুযোগে স্থানীয় ডেকোরেশনের কর্মচারী মনির হোসেন কৌশলে চার বছরের ওই শিশুটিকে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা করে।
বিকেলে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালায়। বিকেল তিনটার দিকে নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা বালুরমাঠ সংলগ্ন একটি গোডাউনের কক্ষ থেকে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মনির হোসেন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়ার মিয়াখান নগরের আলী স্টোর বিল্ডিংয়ে বসবাস করছিলেন। তিনি নিজেও দুই কন্যাসন্তানের জনক।
এদিকে বিকেলে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পুরো বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উত্তেজিত স্থানীয় জনতা পুলিশের গাড়ি আটকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ ও জনতার মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাঁধে।
বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পুলিশের কয়েকটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এই সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পুলিশ প্রায় ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রাত ১০টার দিকে কৌশলে আসামিকে নিরাপদ হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।
পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
