জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্তের বিচার ও উপাচার্যের জবাবদিহিতার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তের দ্রুত বিচার ও উপাচার্যের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ রোববার (১৭ মে) সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। পরে সকাল ১০টার দিকে ভবনের ভেতরের একটি ফটক ও প্রধান দুই ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশাসনিক ভবন অবরোধ চলবে। তবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি এড়াতে প্রয়োজন হলে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আদৃতা রায় বলেন, "এই পুরো ঘটনা ও আন্দোলন নিয়ে প্রশাসনের যে ধরনের দায়িত্বশীলতা দেখানো উচিত ছিল, তার বিন্দুমাত্রও আমরা দেখছি না। আমরা উপাচার্যের কাছে তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। শুধু বলছেন 'কাজ চলছে', কিন্তু কী অগ্রগতি হচ্ছে তা জানাচ্ছেন না।"
তিনি আরও বলেন, "ঘটনার ১০৬ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। মনে হচ্ছে আমাদের শুধু সান্ত্বনা দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই আমরা অবস্থান নিয়েছি। উপাচার্য এসে জবাব না দেওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলনে থাকব।"
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন বহিরাগত। ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ওই যুবকের ছবি সংগ্রহ করে প্রকাশ করেছে পুলিশ। তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন এলাকায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে যান। এরপর থেকেই অভিযুক্তের শাস্তি এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
