১৬ পশুর হাটের ইজারা ৪৮ কোটি টাকা: শীর্ষে দিয়াবাড়ি ও কাজলা
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন রাজধানীজুড়ে ২৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি হাটের ইজারা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৬টি হাটের মোট ইজারা মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। সরকারি নির্ধারিত ৩৮ কোটি ২২ লাখ টাকার বিপরীতে এটি ৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বেশি।
ইজারা পাওয়া হাটগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ দর উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকার পশুর হাটের। এটি ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকায় এসএফ করপোরেশনের মালিক শেখ ফরিদ হোসেনকে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ দর উঠেছে কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ির পানির পাম্প পর্যন্ত বিস্তৃত হাটের। এটি ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় যাত্রাবাড়ীর কে বি ট্রেডের মালিক মো. শামীম খানকে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
এ বছর দুই সিটি করপোরেশন সব মিলিয়ে মোট ২৬টি পশুর হাট বসানোর পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১৫টি এবং ঢাকা দক্ষিণে ১১টি হাট থাকবে। উত্তরের হাটগুলোর মধ্যে একটি স্থায়ী এবং বাকি ১৪টি অস্থায়ী।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, এ বছর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে হাটগুলোর ইজারা সম্পন্ন হয়েছে, যা দরপত্রদাতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত আটটি হাটের ইজারা থেকে ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আয় হয়েছে। ইজারা মূল্যের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ফি দিতে হবে। এসব হাটের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২২ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আটটি হাটের ২৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় ইজারা সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা ছিল ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
ঢাকা উত্তরের অন্যান্য হাটের মধ্যে মিরপুর সেকশন–৬ এর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার হাটটি ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
মিরপুর কালশি বালুর মাঠের খালি জায়গার হাটটি ৩০ লাখ ১১ হাজার টাকায় এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন হাটটি ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব হাজিপাড়ার ইকরা মাদ্রাসা সংলগ্ন হাটটি ১৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় এবং ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচকুড়া বাজারসংলগ্ন হাটটি ২৭ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, খিলক্ষেতের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন হাটটি ৩ কোটি ৭ লাখ টাকায় এবং ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে রানাভোলা এভিনিউ পর্যন্ত বিস্তৃত হাটটি ৮৮ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণে পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন নদীর পাড়ের খালি জায়গার হাটটি ৪ কোটি ১ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাব মাঠের হাটটি ৩ কোটি ১২ লাখ টাকায় এবং আমুলিয়া মডেল টাউনের হাটটি ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের জমির হাটটি ৪ কোটি ২০ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণের অন্যান্য হাটের মধ্যে মোস্তমাঝির মোড় সংলগ্ন গ্রিন বনশ্রী হাউজিংয়ের হাটটি ৭০ লাখ ২০ হাজার টাকায়, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব সংলগ্ন হাটটি ৩ কোটি ১ লাখ টাকায় এবং গোলাপবাগ আউটফল স্টাফ কোয়ার্টারের হাটটি ১ কোটি ৯০ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, বাকি ৯টি হাটের ইজারা কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
গত বছর ঢাকা দক্ষিণে ৯টি অস্থায়ী পশুর হাট এবং ঢাকা উত্তরে মোট ১০টি হাট পরিচালিত হয়েছিল।
