ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ে শ্রমিকদের ঐক্যের ডাক দিলেন চট্টগ্রামের শ্রমিক নেতারা
ন্যায্য মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা ও সম্মানজনক অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের শ্রমিক নেতারা। তারা বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির রূপান্তর এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে শ্রমিকরা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছেন।
শুক্রবার (১ মে) মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, 'শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই।'
তিনি বলেন, 'পুঁজির আগ্রাসী বিস্তার ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের কাজের সুযোগ এবং মজুরি দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। এই নির্মম বাস্তবতা মোকাবিলার জন্য শ্রমিকদের আগের চেয়ে আরও বেশি সচেতন ও সুসংগঠিত হতে হবে।'
তপন দত্ত দেশের স্বাধীনতার স্বপ্নের কথা স্মরণ করে আরও বলেন, 'স্বাধীনতার এত দশক পরও আমাদের বৈষম্যহীন একটি সমাজের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে।' রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে মে দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শ্রমিকদের একতাবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরনগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সেক্টরভিত্তিক শ্রমিক সংগঠন বা ইউনিয়নের নেতা ও কর্মীরা এতে অংশ নেন।
সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বলেন, সারা দেশের বিভিন্ন ঠিকাদারি সংস্থায় কর্মরত শ্রমিকরা এখনও চরম বঞ্চনা, শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি সমাজ গড়তে হলে শ্রমিকদের কাজের উপযুক্ত দক্ষতা এবং সুরক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
এই সমাবেশ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো—শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর অবিলম্বে বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সব শ্রমিককে শ্রম আইনের আওতায় আনা এবং আট ঘণ্টা কাজের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি হিসেবে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা।
এছাড়া অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—'বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬' সংশোধন করে এটিকে আরও গণতান্ত্রিক কাঠামোতে নিয়ে আসা, কাজের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৮৭ ও ৯৮ নম্বর কনভেনশন অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়নের অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা প্রদান করা।
অন্যান্যের মধ্যে ফজলুল কবির মিন্টু, সুকান্ত দত্ত, আব্দুর রহিম, প্রদীপ দাশ এবং মানিক মন্ডলসহ অনেক শ্রমিক নেতা এই সমাবেশে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর এক দল শিল্পী শ্রমিক আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়ে উদ্দীপনামূলক গান পরিবেশন করেন।
সবশেষে একটি বর্ণাঢ্য মিছিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। লাল পতাকা হাতে এই মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ঘুরে নতুন রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়।
