বৃষ্টিপাতেও লেকে পর্যাপ্ত পানি জমেনি, এখনও বন্ধ কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ ইউনিট
গত কয়েক বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদে পর্যাপ্ত পানি না জমায় এখনও পুরোদমে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
কেন্দ্রের মোট ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৪০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চালু আছে। হ্রদের পানি নির্ধারিত উচ্চতায় নেমে এলে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটগুলো পর্যায় ক্রমে বন্ধ করা হয়। আবারও বর্ষা মৌসুমে হ্রদে পানি জমলে ধীরে ধীরে সবকটি ইউনিট চালু করা হয়।
প্ল্যান্ট ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহমুদ হাসান 'দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড'-কে বলেন, "বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হ্রদে পানি উচ্চতা ছিল ৭৭.১০ মিন সি লেভেল (এমএসএল)। বৃষ্টির আগে তা ছিল ৬৮ এমএসএল। উচ্চতা ৮০ এমএসএল পার হলে পর্যায়ক্রমে একটি একটি করে ইউনিট চালু করা হবে। আর ৯০ এমএসএল হলে পানির প্রাপ্যতা দেখে পুরোদমে সবকটি ইউনিট চালু করা হবে। বর্তমানে ৪০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চলছে।"
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তথ্যমতে, লেকে পানি স্তর ৬৮ থেকে ৬৯ এমএসএলকে বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। পানির লেভেল ৭০ এমএসএলের নিচে নেমে গেলে উৎপাদন সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে যাবে। কাপ্তাই লেকের পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে রাঙামাটিতে অবস্থিত এই কাপ্তাই লেক ১৯৬২ সালে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের ফলে ৬৫৫ বর্গকিলোমিটার ভূমি প্লাবিত হয় এবং প্রায় ১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
প্রায় চার হাজার ২৫০ বর্গমাইল ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা অববাহিকা সমৃদ্ধ এই লেকটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জলাধার হিসেবে কাজ করে। বৃষ্টিপাত ছাড়াও ভারতের লুসাই পাহাড় থেকে আসা ঢলসহ উজানের পানি এই লেকে প্রবাহিত হয়।
কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা ১৯০৬ সালে শুরু হয়েছিল এবং ১৯২৩ সালে এর জরিপ কাজ সম্পন্ন হয়। ১৯৪৬ সালে বর্তমান বাঁধের স্থান থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উজানে বরকল এলাকায় এই কেন্দ্রটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
১৯৫৭ সালে মার্কিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'উটাহ ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেশন'-এর অধীনে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মোট ৩৯ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।
কেন্দ্রটির প্রথম দুটি ইউনিটের প্রতিটির ক্ষমতা ৪০ মেগাওয়াট করে স্থাপন করা হয়েছিল, যদিও সেগুলো ৪৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। বাকি তিনটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট।
