এপ্রিলে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের রেকর্ড ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিট উৎপাদন, জাতীয় গ্রিডে বড় অবদান
এপ্রিলের শুরুতে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুতের উচ্চ চাহিদার সময়ে জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে রামপালের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিটেরও (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।
রোববার (৩ মে) বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কয়লাভিত্তিক এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এপ্রিল মাসজুড়ে গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ 'প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর' বজায় রেখে সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে, যখন তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল, তখন কেন্দ্রটি ৯৭ শতাংশ পিএলএফ-এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।
বিআইএফপিসিএল আরও জানায়, গত মাসে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯ শতাংশেরও বেশি যোগান দিয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়েছে। এ নিয়ে কেন্দ্রটি পাঁচবার মাসিক ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক স্পর্শ করল, যা এর ধারাবাহিক সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ।
তীব্র গরমের কারণে গত এপ্রিলে দেশজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে রামপাল কেন্দ্রের পারফরম্যান্স নিয়ে বিআইএফপিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামনাথ পূজারি বলেন, 'চাহিদার শীর্ষ সময়ে প্রায় ৮০ শতাংশ পিএলএফ-এ কেন্দ্রটি পরিচালনা করা আমাদের ধারাবাহিক ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতাকেই তুলে ধরে। এই পর্যায়ের সাফল্য মূলত শক্তিশালী অপারেশনাল চর্চা এবং টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখন ভারতের এনটিপিসি-এর সহযোগিতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। এনটিপিসি বর্তমানে কেন্দ্রটিকে কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছে।
রামনাথ পূজারি বলেন, 'এই সহযোগিতা কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকনিক্যাল এক্সিলেন্স অর্জনে আমাদের মধ্যকার শক্তিশালী অংশীদারিত্বের প্রতিফলন।'
