২৩,৮৬৫ রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) সংসদে পৃথক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়।
আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৬ সালের ৫ মার্চ জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন, এজাহার, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চার্জশিটের অনুলিপি এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে। যদি কোনো মামলা রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে এবং জনস্বার্থে তা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে তা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়।
তিনি বলেন, জেলা কমিটির সুপারিশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৮ মার্চ তাকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অবশিষ্ট মামলাগুলোও পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ না থাকায় সারাদেশে বিএনপি বা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে বিএনপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় সারাদেশে মোট ১ হাজার ৮৫৫টি মামলা দায়ের হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। এর মধ্যে ৭৯৯টি হত্যা মামলা এবং ১ হাজার ৫৬টি অন্যান্য মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব মামলার মধ্যে ১৫৮টির তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি হত্যা মামলা ও ১১০টি অন্যান্য মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাকি ১ হাজার ৬৯৭টি মামলার তদন্ত এখনও চলমান।
মন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক মামলার তদন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হলেও দ্রুততম সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে। প্রতিটি মামলায় যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো দুর্বলতা না থাকে।
জামিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামিন দেওয়া সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিটি মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
