তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১১০ কিমি ড্রেজিংয়ের সুপারিশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের: প্রধানমন্ত্রী
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের সুপারিশ করেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, দাখিলকৃত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে এবং এটি ইতিবাচক হলে ড্রেজিংয়ের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকা সুন্দরগঞ্জের তিস্তা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নদী খননের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে তা কবে নাগাদ শুরু হবে, তা জানতে চেয়েছিলেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিস্তা নদী দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-প্রকৃতিগতভাবে তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টিতে এ অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও নদী ভাঙনের ঘটনা ঘটে। পক্ষান্তরে, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে অনেক স্থানে পানিপ্রবাহ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির সাথে ব্যাপক মাত্রায় পলি প্রবাহের কারণে তিস্তা নদী ভরাট হয় এবং একাধিক চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
তারেক রহমান বলেন, "এ প্রেক্ষিতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে একটি সমীক্ষা সমাপ্ত করেছে। উক্ত সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং কাজ বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যার মধ্যে মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকার তিস্তা নদীর অংশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।"
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, "দাখিলকৃত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কারিগরি ও আর্থিক বিষয়সমূহ বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাধীন রয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম সমাপ্ত এবং কারিগরি দিক থেকে বিষয়টি ইতিবাচক হলে কাজটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।"
