গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা না থাকলেও ঝুঁকি বিবেচনায় গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে: র্যাব
জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে সেগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা নিয়ে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া নির্দেশনার বিষয়ে অবগত রয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
তবে বাহিনীটি বলছে, এই মুহূর্তে এমন হামলা শঙ্কা নেই। তারপরও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমরা যেকোনো ঝুঁকি, যেকোনো থ্রেট গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। আমরা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় গোয়েন্দা নজরদারি করছি। আমাদের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এই মুহূর্তে আমরা হামলার শঙ্কা দেখছি না। আমরা প্রত্যাশা করছি যে অপরাধীরা এই ধরনের সাহস অন্তত করবে না। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় আমাদের ডিপ্লয়মেন্ট রয়েছে।'
এর আগে ব্রিফিংয়ে র্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, মোহাম্মদপুরের সকল সন্ত্রাসী গ্রুপের মূল উৎপাতন করার লক্ষ্যে র্যাব-২ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত র্যাব-২ বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১৫টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করি। যার মধ্যে ১৪টি ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। সেগুলো সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রায় ২ হাজার রাউন্ড দেশি-বিদেশি অস্ত্রের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের ক্ষেত্রেও আমাদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ১ হাজার ২৭৩ জনকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছি।
তিনি আরও বলেন, এর ধারাবাহিকতায় গতকাল (২৭ এপ্রিল) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ এর পৃথক তিনটি আভিযানিক দল রাজধানী শাহ আলী, মোহাম্মদপুর এবং পল্টন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি এক নলা দেশি বন্দুক, ৩৭ রাউন্ড তাজা গুলি, তিনটি দেশিয় চাপাতি-সামুরাই এবং প্রায় লক্ষাধিক ইয়াবাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে
এর মধ্যে শাহ আলী থানা এলাকার শাহ আলী কলেজ মার্কেট এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ম্যাগাজিনসহ ফোকরান আলী আকন্দ (৬৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রটি যাচাই করে দেখা গেছে, এটি ৫ আগস্ট মিরপুর মডেল থানা থেকে লুট করা হয়েছিল।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, এই ফোকরান আলী পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে পটুয়াখালী থানায় একটি ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা, রামপুরা থানায় হত্যা মামলা এবং ঝালকাঠির রাজাপুর থানায় একটি ডাকাতির মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, র্যাব-২ এর আরেকটি আভিযানিক দল মোহাম্মদপুরের তুরাগ হাউজিং এলাকা থেকে ৭ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি বিদেশি রিভালবারসহ আব্দুর রহমান ওরফে রহমতুল্লাকে (৪২) গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বসিলা হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
একই আভিযানিক দল মোহাম্মদপুর থানাধীন চাঁন মিয়া হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে নূর হোসেনকে (৫০) গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার বাসা থেকে একটি প্যাকেটে ৯৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধা করা হয়। এই দুইজন মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের অতীত রেকর্ড যাচাই করে দুইজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় সাতটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত এই দুইজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একই আভিযানিক দল পল্টন থানার ফকিরাপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও ৩৩ রাউন্ড ৭.৬৫ তাজা গুলি উদ্ধার করে। এ সময় মনিরুল ইসলাম ওরফে রাডার মনিরকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চারটি মাদকের মামলা, একটি হত্যা মামলা এবং একটি হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, একই রাতে র্যাব-২ এর আরেকটি আভিযানিক দল মোহাম্মদপুর থানাধীন সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে ছিনতাই চক্রের তালিকাভুক্ত দুই সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন- আলামিন ও নূর নবী। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি চাপাতি উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর-আদবর এই অঞ্চলের মাদক, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং নিয়ে আমরা কনসার্ন।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা এই এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং এর সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। অনেকে আবার ফিরে এসে অপরাধে জড়িয়েছেন। এমনও আছে, একই অপরাধীকে দুইবার-তিনবার গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। কোনো অপরাধী যতবারই অপরাধ করবে, আমরা তাদেরকে ছাড় দেব না।
