র্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমনকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি হাইকোর্টের
২০১১ সালে ঝালকাঠিতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেনকে দুই কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অভিযুক্ত র্যাব কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, আবদুল্লাহ আল নোমান ও ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী।
এর আগে র্যাবের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পা হারানো লিমন ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন।
২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার জমাদ্দারহাটে র্যাবের অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হন লিমন হোসেন।
তিনি জানান, র্যাব সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করে। এর কয়েক দিন পর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার বাঁ পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার মাত্র ১২ দিন আগে এই ঘটনা ঘটে। তখন লিমনের বয়স ছিল ১৬ বছর। সেই বছর তার আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।
তবে দমে যাননি দরিদ্র পরিবারের সন্তান মেধাবী লিমন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পড়াশোনা করে পরের বছর পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কাঁঠালিয়া পিজিএস বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪- পান তিনি। এরপর ভর্তি হন সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করছেন।
