মানবতাবিরোধী অপরাধ: সাবেক মন্ত্রী-সচিবদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ৩ মাস বাড়ল
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও তিন মাস সময় বাড়ানো হয়েছে।
আগামী ২৬ জুলাই এই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিন ধার্য করেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি এ মামলার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন এবং একই সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করতে আরও তিন মাস সময় প্রার্থনা করেন।
শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, 'এ মামলায় মোট ৪৬ জন আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ধাপে ধাপে অনেকের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। কয়েকটির বিচারও চলছে। বাকি কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ প্রতিবেদনও আমরা দাখিল করতে পারব। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিচার চলমান।'
শুনানি শেষে আদালত আগামী ২৬ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
এর আগে, এদিন সকালে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে এ মামলার ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
হাজির করা আসামিরা হলেন— সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
