ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
সরকার আগামী ডিসেম্বর মাসে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
'শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট করা হবে কেন?'—প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, 'এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা যায় কি না, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করছে মন্ত্রণালয়।'
সোমবার (২০ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, 'জানুয়ারিতে ক্লাস শুরু হয়ে ডিসেম্বরে কোর্স শেষ হয়। সে ক্ষেত্রে কোর্স শেষ হওয়ার পরই পরীক্ষা নেওয়া যৌক্তিক।'
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের সময় সাশ্রয় এবং শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে কাজ চলছে।
গত মাসে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য জানানো হয়।
বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী দশম শ্রেণির ক্লাস শেষ করার পরের বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। একইভাবে এইচএসসির ক্ষেত্রেও প্রায় একই ধারা অনুসরণ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে অনুষ্ঠিত হলেও করোনা মহামারির পর সেই সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।
চলতি বছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২১ এপ্রিল এবং এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২ জুলাই থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের শিক্ষাবর্ষ কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের বিষয়ে সরকার ভাবছে। তবে ঠিক কবে থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে—তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
এসময় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, 'সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যত্যয় ঘটলেও এখন সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নিয়ে সিলেবাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে।'
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
