বাড়তি তেল না পেয়ে ডিপো থেকে খালি হাতেই ফিরে গেল ট্যাঙ্ক লরি
সরকার ঘোষিত বাড়তি তেল না পাওয়ায় রাগ করে তেল না নিয়েই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপো থেকে ফিরে এসেছে রাজধানীর আগারগাঁও এ অবস্থিত হাসান ফিলিং স্টেশনের ট্যাঙ্ক লরি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) এ তথ্য জানিয়েছেন ফিলিং স্টেশনটির মালিক ও পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির আহ্বায়ক সাজ্জাদুল করিম কাবুল।
তিনি বলেন, 'আমি তেল সংগ্রহ করি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত যমুনা ওয়েল কোম্পানির ডিপো থেকে । আমার ট্যাঙ্ক লরির ধারণক্ষমতা ১৩,৫০০ লিটার । গত তিন দিন আমাকে ৯০০০ লিটার করে তেল দিয়েছে। আজকে তেল নিতে গেলে ডিপো ৯,০০০ লিটার দেওয়ার কথা জানায়। রাগ হয়ে আর তেলই নেইনি।'
সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, 'এমনিতেই পাম্পগুলোতে তেলের জন্য এত মারামারি-হুড়োহুড়ির মধ্যে আমাদের কর্মচারীরা ঠিকভাবে সামাল দিতে পারছে না । আমার পাম্পে দীর্ঘদিন কাজ করা ম্যানেজার গতকাল রাতে চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। তেলের জন্য তাকে নাকি ওখানকার স্থানীয় মাস্তানরা হুমকি দিয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এসব পুলিশের সামনেই হচ্ছে, পুলিশ নিরুপায় এ ক্ষেত্রে। এভাবে তো পারা যাচ্ছে না আর। এরকম চলতে থাকলে মনে হচ্ছে পাম্প বন্ধই হয়ে যাবে।'
কাবুল বলেন, 'তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর পাম্প মালিকরা আশা করেছিল তেলের সরবরাহ হয়তো উন্মুক্ত করে দেবে সরকার। কিন্ত এখন পর্যন্ত তা দেখা যাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালী আবারও অবরুদ্ধ হওয়ায় সরকার প্যানিকড হয়ে গেছে।'
এ পরিস্থিতির জন্য তিনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর দীর্ঘসূত্রিতাকে দায়ী করেন।
ডিপো থেকে পাম্পগুলোতে টানা সাতদিন পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করলে সংকটটা আর থাকতো না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কাবুল বলেন, 'তেল বিক্রি করে অয়েল কোম্পানি, তাদের কন্ট্রোল করে বিপিসি, বিপিসিকে কন্ট্রোল করে মন্ত্রণালয়, মন্ত্রণালয়কে কন্ট্রোল করে পিএম সেক্রেটারিয়েট। এত ধাপ পেরিয়ে নির্দেশ পৌঁছাতে পৌঁছাতে মানুষ মরে দাফন-কাফন শেষ হয়ে যায়।'
