জ্বালানির দাম হঠাৎ সমন্বয় করলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়তে পারে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
জ্বালানির দাম হঠাৎ সমন্বয় করলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার সংকটকে সম্ভাবনায় রূপান্তরের নীতি নিয়েই এগোতে চায়। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে হঠাৎ মূল্য সমন্বয় করলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়তে পারে, তাই ধাপে ধাপে সমন্বয়ের পথে এগোনোর কথা ভাবা হচ্ছে।'
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশন আয়োজিত এক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন।
এসময় রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, 'ভবিষ্যতে সংকট মোকাবিলায় খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কৌশলগত মজুদের পরিকল্পনা রয়েছে।'
তিনি বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন কাঠামো গ্রহণ করতে যাচ্ছে, যার লক্ষ্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং পরবর্তী সময়ে প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় আরও বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী পদ্ধতি অনুসরণ করবে এবং বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগহীন সংখ্যাভিত্তিক বর্ণনা থেকে সরে আসবে।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনাগুলো বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হবে এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাস্তবায়ন কৌশল ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশ একটি 'প্যারাডাইম শিফট'-এর দিকে এগোচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অতীতে অনেক পরিকল্পনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে। আমরা আর এমন কোনো পরিকল্পনা করতে চাই না, যার বাস্তবায়নের কৌশল নেই।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, 'নতুন অর্থনৈতিক কৌশলে শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ নয়, তার সঙ্গে বাস্তবায়ন পদ্ধতি, জবাবদিহিএবং জনগণের কাছে অগ্রগতি তুলে ধরার ব্যবস্থাও রাখা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা এমন একটি কাঠামো চাই, যেখানে প্রতিটি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কৌশল স্পষ্ট থাকবে এবং সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।'
তিতুমীর বলেন, 'সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার ও পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষ অর্থনীতিতে পরিবর্তন চেয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই পরিকল্পনায় বাস্তবায়নের ঘাটতি ছিল।'
তিনি বলেন, 'অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।'
তিতুমীর বলেন বলেন, 'অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন চাই, যেখানে সবার প্রয়োজন অনুযায়ী চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা হবে। ভবিষ্যতে বাস্তবায়নযোগ্য অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং অর্থনীতির গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে চায় সরকার।'
এক প্রশ্নের জবাবে ড. মনজুর হোসেন বলেন, 'বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক কৌশলকে কেবল একটি প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং সমন্বিত পুনরুদ্ধার (রিকভারি), পুনর্গঠন (রিকনস্ট্রাকশন) এবং সংস্কার (রিফর্ম) প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে।'
তিনি জানান, 'পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলপত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে রিকভারি, রিস্ট্রাকচারিং ও রিকনস্ট্রাকশন সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ইতোমধ্যে অ্যাডভাইজরি কমিটির আজকের সভার মাধ্যমে কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এবং কিছু প্রাথমিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি খসড়া কৌশলপত্র প্রস্তুত করতে পারব। পরবর্তীতে অংশীজনদের মতামত নিয়ে ২-৩ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত কৌশলপত্র প্রকাশ করা সম্ভব হবে।'
