৫ বছর মেয়াদি নতুন অর্থনৈতিক কৌশল আসছে; খসড়া প্রস্তুত হবে ২ মাসে: রাশেদ আল মাহমুদ
অতীতের মতো শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই কৌশলপত্রটি চূড়ান্ত করা হবে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে 'বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনঃনির্ধারণ' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক সভায় এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, "আমরা আর এমন কোনো পরিকল্পনা করতে চাই না যার বাস্তবায়নের কৌশল নেই। অতীতে অনেক পরিকল্পনা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন অর্থনৈতিক কৌশলে শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ নয়, তার সঙ্গে বাস্তবায়ন পদ্ধতি, জবাবদিহিতা এবং জনগণের কাছে অগ্রগতি তুলে ধরার ব্যবস্থাও রাখা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা এমন একটি কাঠামো চাই যেখানে প্রতিটি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কৌশল স্পষ্ট থাকবে এবং সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। আমরা অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন চাই, যেখানে সবার প্রয়োজন ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা হবে। সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার ও পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে।"
অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার সংকটকে সম্ভাবনায় রূপান্তরের নীতি নিয়ে এগোতে চায়। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে হঠাৎ মূল্য সমন্বয় করলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়তে পারে, তাই ধাপে ধাপে সমন্বয়ের পথে এগোনোর কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া ভবিষ্যতে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও 'কৌশলগত মজুত' গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন।
এক প্রশ্নের জবাবে সচিব ড. মনজুর হোসেন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই অর্থনৈতিক কৌশলকে কেবল একটি সাধারণ প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং সমন্বিত পুনরুদ্ধার (রিকভারি), পুনর্গঠন (রিকনস্ট্রাকশন) এবং সংস্কার (রিফর্ম) প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নেরই একটি অংশ।
তিনি জানান, আজকের অ্যাডভাইজরি কমিটির সভার মাধ্যমে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলপত্র প্রণয়নের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। কিছু প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ড. মনজুর বলেন, "আমরা আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যে খাসড়া কৌশলপত্র প্রস্তুত করতে পারব। পরবর্তীতে অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) মতামত নিয়ে ২-৩ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত কৌশলপত্র প্রকাশ করা সম্ভব হবে।"
সভার আয়োজক ছিল বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। এতে পরিকল্পনা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
