চট্টগ্রামে আইন ভঙ্গ করে বৈশাখী মেলায় সাপের খেলা
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মেলায় আইন লঙ্ঘন করে সাপের খেলা দেখানো হয়েছে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী কোনো বন্যপ্রাণী যেমন- সাপ, বানর, টিয়া পাখি বা হাতি দিয়ে খেলা দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ।
এদিকে মেলায় সাপের খেলা দেখানোর প্রতিবাদ করেন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ ও স্নেক রেসকিউয়ার্স টিম এবং ন্যাচার কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের দুই সদস্য। তারা আইনের বিষয়টিও উল্লেখ করে উপজেলা প্রশাসনকে সাপের খেলা বন্ধ করার অনুরোধ জানান। তবে খেলা বন্ধ না করে উল্টো তাদের আটক করার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসান। পরে টিমের আরও দুই সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী সোহরাব হোসেন টিবিএসকে বলেন, 'আমরা উপজেলা প্রশাসনকে আইন সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করলে আমাদের আটক করে আফিসে নিয়ে যায়। আমাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য আমার বড় ভাইদের আসতে বলে। তারা গিয়ে আমাকে ছাড়িয়ে আনেন।'
বাংলাদেশ স্নেক রেসকিউয়ার্স টিমের লিডার ছিদ্দিকুর রহমান রাব্বি টিবিএসকে বলেন, 'আমি নিজে গিয়ে ইউএনওর সাথে দেখা করেছি। তিনি আমাদের সদস্যদের আটকের কারণ সম্পর্কে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।'
তিনি বলেন, 'প্রশাসন যেখানে আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার কথা, সেখানে তাদের সচেতন করতে গিয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের যদি হেনস্তার শিকার হতে হয়, তাহলে তা খুবই হতাশাজনক।'
এ বিষয়ে জানতে ইউএনও মেহেদি হাসানের সরকারি মোবাইল নম্বরে কয়েকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরিফ উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, 'এমন একটি অভিযোগ পেয়ে আমি সাথে সাথেই ইউএনও কল করেছিলাম।' তবে কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, 'সম্ভবত কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে সেখানে। আটক করা হলেও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন করেছে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'
তবে আইন ভঙ্গ করে সাপের খেলা দেখানের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য টিবিএসকে বলেন, আইনে সাপের মতো কোনো বন্যপ্রাণী কারো হেফাজতে রাখাও দণ্ডনীয় অপরাধ। আর আইন সবার জন্য সমান।
তিনি বলেন, আইনটি গত জানুয়ারিতে অধ্যাদেশ আকারে গেজেট করা হলেও সম্প্রতি সংসদে বিল আকারে পাশ হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের এ বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখা উচিত ছিল।
