কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: মামলা করবে না পরিবার, দুই দিনে আটক হয়নি কেউ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করবে না তার পরিবার। এ ঘটনায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফজলুর রহমান জানান, রোববার রাতেই পরিবারের সদস্যরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা মামলা করবেন না।
তিনি বলেন, 'যে চলে গেছে, তাকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। অযথা ঝামেলায় যাব না। আমরা সাদাসিধা মানুষ।'
নিজের বয়স ৭০ বছরের বেশি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'মামলা করতে হলে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে, তদবির করতে হবে। এখন আর অত পরিশ্রম করতে চাই না।'
পরিবারের ওপর কোনো চাপ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'না, কোনো চাপ নাই। দরবারে এখনও পুলিশ আছে।'
এদিকে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, 'পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার সকালে থানায় এসে মামলা করার কথা বলা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় আসেননি।'
তিনি বলেন, 'জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।'
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুর রহমান ওরফে শামীমের কয়েক বছর আগের একটি ভিডিও গত শুক্রবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তিনি পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
এর জেরে শনিবার সকালে শামীমের দরবার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে আবেদের ঘাট এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। পরে দুপুরের দিকে তারা শামীমের দরবারে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলার সময় দরবারের ভেতরে থাকা পাঁচ থেকে সাতজন আহত হন। অন্যরা প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দরবার এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
