পহেলা বৈশাখের আগে ইলিশের দাম চড়া, স্বস্তি নেই সবজি-মুরগিতেও
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে সবজি, মুরগি ও অন্যান্য মাছের দাম।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর লালবাগ, নিউমার্কেট ও হাতিরপুল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০০–৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০–৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৮০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ৩,০০০ থেকে ৩,২০০ টাকা কেজি।
আজিমপুরের বাসিন্দা গৃহিণী নুসরাত জাহান টিবিএসকে বলেন, "৫৫০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ মাছের দাম ১,৩৮০ টাকা নিয়েছে। বৈশাখকে ঘিরে ইলিশের দাম কিছুটা বাড়ে, তবে এবার তা আমাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।"
নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা তুহিন মিয়া বলেন, "এ বছর ইলিশের আমদানি কম। বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে, তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলেদের জালে বেশি মাছ ধরা পড়লে দামও কম থাকত।"
অন্যান্য মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। কেজিপ্রতি মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ২২০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার পাঙ্গাশ মাছ ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও শুক্রবার তা ২০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকায় উঠেছে। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যা তিন দিন আগে ছিল ২৮০ টাকা।
দুই কেজির বেশি ওজনের রুই মাছের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংড়াসহ প্রায় সব মাছই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের দাম বেড়েছে।
এক মাসে সোনালি মুরগির দাম ৮০ টাকা বেড়ে কেজিতে ৪৩০ টাকা হয়েছে। ব্রয়লার মুরগি এক দিনের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৭০ টাকায় বিক্রি হতো।
লালবাগের মুরগি ব্যবসায়ী কাউসার মিয়া বলেন, "আমাদেরও বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। যে দামে কিনি, সেই দামে বিক্রি করি। গতকালের তুলনায় আজ ব্রয়লার ১৫ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। আর সোনালি মুরগির দাম ঈদের পর থেকেই বাড়ছে।"
তিনি আরও বলেন, "পাইকাররা বলছে, খামারিদের উৎপাদন কমেছে এবং পরিবহন খরচ বেড়েছে, তাই বাজারে দাম বেশি।"
এদিকে, বাজারে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। গোল বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, শিম ৮০ টাকা ও পটল ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া ঢেঁড়স ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সজিনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী জহির মিয়া বলেন, "গত সপ্তাহের তুলনায় আজ সব ধরনের সবজির দাম বেশি। কয়েক দিন ধরেই বাজারে সবজির দাম বাড়তি।"
সবজি বিক্রেতা তারেক বলেন, "পাইকারি বাজারে কেনা দাম বেড়েছে। জ্বালানি তেলের কারণে পরিবহন খরচও বেড়েছে। অনেক সবজির মৌসুম শেষের দিকে, ফলে সরবরাহ কম। তাই দাম বাড়ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন, "কয়েক দিনের মধ্যে নতুন সবজি উঠলে দাম কিছুটা কমতে পারে।"
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটের মধ্যে খোলা তেলের দামও লিটারে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। সরকার নির্ধারিত এক লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৯৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৭৬ টাকা এবং পাম তেলের দাম ১৬৪ টাকা।
তবে বাজারে খোলা সয়াবিন ২০০ থেকে ২১০ টাকা এবং পাম তেল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে খোলা চিনি প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুই সপ্তাহ আগে ৫ টাকা কম ছিল।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলাররা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি এক মাসের বেশি সময় ধরে চললেও গত তিন-চার দিন ধরে নতুন করে অর্ডার নেওয়া বন্ধ রয়েছে।
