যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসা খান মসজিদের সংস্কার কাজ শুরু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত মোগল আমলের মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে আজ (৩১ মার্চ)। রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে কম সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি এই মসজিদ সংরক্ষণে অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ৩৬ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কার্জন হলের পাশে অবস্থিত মুসা খান মসজিদটি মোগল স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলেও এতদিন এটি তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিতই ছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, মসজিদটি ১৮শ শতাব্দীতে নির্মিত।
উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত তিন গম্বুজের এই মসজিদে সেই সময়ের স্থাপত্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এটি বারো ভূঁইয়া নেতা ঈসা খানের পুত্র মুসা খানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়।
মসজিদটির প্ল্যাটফর্মের নিচে খিলানযুক্ত কক্ষ রয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হয় এটি শুধু নামাজের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। তবে স্থাপনাটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এতদিন বড় পরিসরে তেমন সংরক্ষণ উদ্যোগ দেখা যায়নি এখানে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মসজিদটির কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপশি এর মূল উপকরণ সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য থ্রিডি মডেলিংসহ বিস্তারিত নথিও তৈরি করা হবে।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করা হবে, যাতে আশপাশের এলাকায় নেওয়া কাজগুলো টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়ানো এবং পুরো এলাকার পরিবেশ উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সচেতনতা, গবেষণা ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১৯৯৫ সালে মসজিদটিকে সংরক্ষিত প্রত্নস্থল হিসেবে ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর কাঠামোয় অবনতি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে স্থাপনাটিতে ফাটল ধরেছে, উপকরণ নষ্ট হচ্ছে এবং আগের অনিয়ন্ত্রিত পরিবর্তনের প্রভাবও রয়েছে।
মসজিদটি 'বাংলাদেশের মোগল মসজিদসমূহ' শিরোনামে ইউনেস্কোর সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবেও রয়েছে। সংরক্ষণ ঠিকভাবে হলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঐতিহ্য সংরক্ষণে দেশের সক্ষমতা বাড়বে এবং গবেষণার সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জনসচেতনতা ও পর্যটন উন্নয়নেও এটি সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার একটি উদাহরণ।
মসজিদ প্রাঙ্গণে আজ (৩১ মার্চ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক সাবিনা আলম।
