স্বাস্থ্যখাতে কোনো দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যত সংকটই থাকুক, স্বাস্থ্যখাতে কোনো প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যখাতে নানা সংকট রয়েছে, এগুলো সমাধানে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে কোনো দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। দুর্নীতি রোধে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
রোববার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি এ এক্সপোর আয়োজন করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যদি আমরা শুধু 'করব, করব' বলেই থাকি, তাহলে দেশের পতাকাকে এগিয়ে নেবে কারা? দেশ যদি পিছিয়ে পড়ে, আমরা যদি ভেঙে পড়ি, মানুষের কাছে মানসম্মত ওষুধ পৌঁছে দিতে না পারি—তাহলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।"
তিনি আরও বলেন, "গত ১১ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ শিশু মারা গেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও আমরা মন্ত্রী বা সচিব হিসেবে বিষয়টি জানতে পারিনি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানা গেছে। ন্যূনতম প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।"
এ সময় স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এটি শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং বাংলাদেশে ফার্মাসি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, "স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ছিল, বাকি ৮০ শতাংশ আমদানি নির্ভর ছিল। বর্তমানে মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৫৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে।"
ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ বর্তমানে ১২২টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং বৈশ্বিক পরিসর ধীরে ধীরে বাড়ছে। দেশের ওষুধ শিল্প গুণগত মান ও কার্যকারিতা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক সুনাম ধরে রাখতে কাজ করছে।
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আব্দুল মুকতাদির বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করছে এবং বৈশ্বিক উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এপিআই শিল্পেও আরও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। নীতিগত সহায়তা পেলে এ খাত আরও এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, "ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ ভারত ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে চায়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হলেও বিভিন্ন পদক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের ওষুধের দাম কম এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কম মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। তা না হলে ওষুধ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০টি কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে।"
