সিঙ্গাপুর থেকে ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে আরও একটি জাহাজ
সিঙ্গাপুর থেকে ৩১ হাজার ২০৩ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে 'গ্রান কুভা' নামক একটি জাহাজ।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ১ মার্চের পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বন্দরে আসা এটি ২৮তম জ্বালানি জাহাজ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার ও মেরিন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে আসা এই ২৮টি জাহাজ মোট ৭ লাখ ৯০ হাজার ৭৪০ মেট্রিক টন জ্বালানি পণ্য পরিবহন করেছে।
এদিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই চালানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা এবং গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি রয়েছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, ৩৯ হাজার ৭১৬ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস, ৭৮ হাজার ২৫ টন হাই সালফার ফার্নেস অয়েল, ১ লাখ ৭৬ হাজার ২০২ টন গ্যাস অয়েল, ৯ হাজার ৯০৯ টন বেস অয়েল এবং ৫ হাজার ১৯ টন মনোইথিলিন গ্লাইকল রয়েছে।
ইতোমধ্যেই অধিকাংশ জাহাজ পণ্য খালাস সম্পন্ন করে বন্দর ত্যাগ করেছে। তবে কয়েকটি জাহাজ এখনো ব্রাভো, চার্লি, সীতাকুণ্ড এবং কুতুবদিয়াসহ অভ্যন্তরীণ নোঙর পয়েন্টগুলোতে অবস্থান করছে এবং ক্লিয়ারেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে।
কাতার, অস্ট্রেলিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মালয়েশিয়া, ভারত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এই জ্বালানি আমদানি করা হয়েছে। এটি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের বহুমুখী আমদানিনির্ভরতার বিষয়টিকে স্পষ্ট করে৷
আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে এলএনজি ছিল সিংহভাগ। এখন পর্যন্ত আসা ছয়টি বড় জাহাজে মোট ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯ টন এলএনজি এসেছে। এর মধ্যে কাতার থেকে 'আল জুর' এনেছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩২১ টন, 'আল জাসাসিয়া' এনেছে ৯৭ হাজার ৪৯৬ টন এবং 'লুসাইল' এনেছে ৬২ হাজার ৯৮৭ টন। এছাড়া অন্যান্য চালানের মধ্যে কাতারের 'আল গালায়েল' থেকে ৫৭ হাজার ৬৬৫ টন, অস্ট্রেলিয়ার 'প্রাচী' থেকে ৭৪ হাজার ৯২৯ টন এবং অ্যাঙ্গোলার 'সোয়াঙ্গোল বেঙ্গুয়েলা' থেকে ৭০ হাজার ৬৭১ টন এলএনজি এসেছে।
আঞ্চলিক সরবরাহকারীদের মাধ্যমে এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। 'মর্নিং জেন' মালয়েশিয়া থেকে মোট ৪ হাজার ৯৬৮ টনের দুটি চালান সরবরাহ করেছে। এছাড়া 'সেনা ৯' এবং 'শুমি ৭' ভারত থেকে চালান নিয়ে এসেছে। মালয়েশিয়ার 'এপিক সান্টার', সিঙ্গাপুরের 'পল' এবং ওমানের 'এলপিজি সেভান' মিলিয়ে মোট ৩৯ হাজার ৭১৬ টন এলপিজি এসেছে।
পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানিও ছিল উল্লেখযোগ্য। সিঙ্গাপুর থেকে ফার্নেস অয়েল নিয়ে এসেছে বেশ কিছু ট্যাঙ্কার, যার মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার টন করে 'এলান্দ্রা স্প্রুস' ও 'হাফনিয়া ববক্যাট', 'লেডি অফ ডোরিয়া' ১৩ হাজার ৩ টন এবং 'এসসি গোল্ড ওশান' ২৫ হাজার ২২ টন।
সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে গ্যাস অয়েল এসেছে এবং 'অ্যাঞ্জেল নং ১১' ও 'এবি অলিভিয়া' বেস অয়েল সরবরাহ করেছে।
এছাড়া, ৩ হাজার ৮০০ টন এলপিজি নিয়ে 'বিডব্লিউইকে বোর্নহোম' জাহাজটি ইতোমধ্যেই বন্দর সীমায় পৌঁছেছে, তবে খালাস প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।
এদিকে, আগামী কয়েক দিনে আরও ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ টন জ্বালানি পণ্য নিয়ে আরও চারটি জাহাজ আসার পথে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৭৮ টন এলএনজি নিয়ে 'এইচএল পাফিন', ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার ৫৫১ টন এলএনজি নিয়ে 'নিউ ব্রেভ', মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন গ্যাস অয়েল নিয়ে 'পিভিটি সোলানা' এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬৯ হাজার ৮৮১ টন এলএনজি নিয়ে আসা 'সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস'।
ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও জ্বালানি পণ্যের এই প্রবাহ বাংলাদেশের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, 'জাহাজের চলাচলের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখা হচ্ছে যাতে সঠিক সময়ে বার্থিং এবং খালাস নিশ্চিত করা যায়।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ড বহির্নোঙরে জ্বালানি জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা প্রদান করছে।'
