জ্বালানি সংকট নিরসনে ডিসিদের নিয়ে সভা; বিদ্যুৎ ও তেল সাশ্রয়ে নেওয়া হচ্ছে নানামুখী উদ্যোগ
রেশনিং প্রথা প্রত্যাহার করার পরও দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় অনেক পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ ঘাটতি দূর করতে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করেছে সরকার। একই সঙ্গে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক কর্মসূচি।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন সকালে জ্বালানি তেল বিপণনকারী রাষ্ট্রায়ত্ব তিন প্রতিষ্ঠান—পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করছে জ্বালানি বিভাগ। এসব বৈঠকে তেল সরবরাহ পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় দেশের সকল জেলা প্রশাসককেও যুক্ত করা হয়। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মুনির হোসাইন চৌধুরীর নেতৃত্বে এই সমন্বয় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা টিবিএসকে জানান, সভায় কোনো জেলা প্রশাসক যদি তার জেলার কোনো ফিলিং স্টেশনে ডিপো থেকে বরাদ্দ অনুযায়ী কম তেল পাওয়ার অভিযোগ তোলেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিপণন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি ফিলিং স্টেশনকে তাদের নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সভায় রাষ্ট্রায়ত্ব তিন বিপণন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আগের দিনের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের কাছে নিয়মিত পেশ করা হচ্ছে। যদি কোনো জেলা প্রশাসক তার জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য অতিরিক্ত সরবরাহের প্রস্তাব করেন, তবে মন্ত্রী বা সচিবের পরামর্শ অনুযায়ী তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সচেতন হতে হবে। অন্যথায় এই সংকটময় পরিস্থিতি সরকারের একার পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। এই প্রেক্ষাপটেই আগামী সপ্তাহ থেকে জনসচেতনতা বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা টিবিএসকে জানান, জ্বালানি বিভাগ একটি কিউআর কোড তৈরির কাজ করছে, যা আগামী সপ্তাহেই দেশজুড়ে সকল ফিলিং স্টেশনে ব্যানারের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে। এই ব্যানারে জনগণকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানানো হবে।
ব্যানারে থাকা কিউআর কোডটি স্ক্যান করলেই যেকোনো নাগরিক দেখতে পাবেন ওই ফিলিং স্টেশনটি গত সাত দিনে সংশ্লিষ্ট ডিপো থেকে কী পরিমাণ তেল সংগ্রহ করেছে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এর পাশাপাশি দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির অনুরোধ জানাবে জ্বালানি বিভাগ।
স্কুলের প্রতিটি শ্রেণির ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে উৎসাহিত করবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে পারে।
এছাড়া দেশের সকল মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাধ্যমেও জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে জনসচেতনতামূলক লিফলেট ছাপানোর উদ্যোগও নিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, যা গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে দেশজুড়ে বিতরণ করা হবে।
