ফিরেছে চিরচেনা ব্যস্ততা, বেনাপোল দিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় পণ্যবাহী ৯০০ ট্রাক
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে নতুন উদ্যোমে সচল হয়ে উঠেছে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর। বর্তমানে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ও সংলগ্ন বনগাঁ এলাকায় বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পণ্যবাহী প্রায় ৯০০ ট্রাক রয়েছে। এর মধ্যে পেট্রাপোলে প্রায় ৬০০ ট্রাক এবং বনগাঁ শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পার্কিংয়ে আরও ৩০০ এর বেশি ট্রাক অবস্থান করছে।
দীর্ঘ ছুটির পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই বন্দরে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। আজ বুধবার পুরোদমে ফিরে এসেছে চিরচেনা ব্যস্ততা।
অন্যদিকে, বেনাপোল বন্দরে ভারতে প্রবেশের জন্য প্রায় ৫০টি ট্রাক পণ্য নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। দীর্ঘ ছুটির কারণে এই জট তৈরি হলেও উভয় দেশের বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত এ জট নিরসনের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারতের পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শশাঙ্ক শেখর ভট্টাচার্য রাজা জানান, ঈদের ছুটির সময় পণ্যবাহী ট্রাকগুলোর চাপ বাড়ে। তাই বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, উভয় দেশের কর্মকর্তারা আন্তরিকভাবে কাজ করলে দ্রুতই এ যানজট কমে আসবে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান জানান, ঈদের ছুটি শেষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কাজে যোগ দেওয়ায় পণ্যের গেট পাস কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। ফলে আমদানি-রপ্তানিও ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে।
তিনি জানান, গত দুই দিনে দুই শতাধিক ট্রাক পণ্য আমদানি এবং দেড় শতাধিক ট্রাক পণ্য রপ্তানি সম্পন্ন হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি সচল করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন শেডে পণ্য আনলোড শুরু হয়েছে এবং দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুই দেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ যদি সমন্বিতভাবে কাজ করে, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
