কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৩ জনসহ নিহত ৪
কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১২ জনের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে।
নিহতদের স্বজনদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নিহতরা হলেন—লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা গ্রামের বুদ্দিনগর এলাকার লাইজু বেগম (২৬), তার মেয়ে খাদিজা আক্তার (৬) ও ময়িরম আক্তার (৩)। এছাড়া একই ঘটনায় নিহত হয়েছে কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি গ্রামের সিরাজুদৌলার মেয়ে ছায়েদা আক্তার (৯)।
নিহত লাইজু বেগমের বোন হাজেরা আক্তার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আমার বোনের শ্বশুরবাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। তার স্বামী মামুন পরিবহনে চালক হিসেবে চাকরি করেন। ঈদ উপলক্ষে তারা সবাই আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। ঢাকায় এসে বোনের স্বামী তাদের লক্ষ্মীপুরগামী মামুন পরিবহনের বাসে তুলে দেন এবং নিজে অন্য একটি গাড়িতে কাজে যোগ দেন।"
"রাত ৩টার দিকে আমরা লক্ষ্মীপুর স্টেশনে গিয়ে ফোন করলে সেটি বন্ধ পাই। পরে বোনের স্বামীকে জানালে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন বাসটি দুর্ঘটনায় পড়েছে। পরে কুমিল্লার হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার বোনের পুরো পরিবারই নিহত হয়েছে," যোগ করেন লাইজু।
অন্যদিকে নিহত ছায়েদা আক্তারের মামা মো. শুভ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আমার বোনের স্বামী ফরিদপুরে একটি মসজিদের ইমাম। ঈদের ছুটিতে তারা দুই মেয়ে নিয়ে বাড়িতে আসছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনায় আমার ভাগনি মারা যায়।"
"এ ঘটনায় আমার দুলাভাই সিরাজুদৌল্লা (৫০), বোন রাজিয়া বেগম (৩৬) এবং আরেক ভাগনি আপনান আক্তার (১৮) গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে," যোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আজ রোববার (২২ মার্চ) ভোরে কুমিল্লা সদর উপজেলার জাঙ্গালিয়া কচুয়া এলাকায় রেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন।
