অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক কাজ ২৪ মার্চ থেকে শুরু
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে শুরু হবে।
ওই দিন সকাল ১১টায় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিশেষ কমিটি সভা করবে। সেখানে এসব অধ্যাদেশ খতিয়ে দেখা হবে। কোনো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় আছে কি না, তা যাচাই করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা মূলত দেখব, এসব অধ্যাদেশের কোনো বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, অন্য আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্য আছে কি না, কিংবা একই বিষয়ে আগে কোনো আইন প্রণীত হয়েছে কি না।"
যাচাই-বাছাইয়ে কোনো অধ্যাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, "সবগুলো অধ্যাদেশই সংবিধানের আলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। কোনো একটি অধ্যাদেশকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। কমিটির ১৪ জন সদস্যই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। এরপর আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা হবে।"
১৪ সদস্যের এই বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. এম ওসমান ফারুক, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আব্দুল বারী এমপি, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, জামায়াতের মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও জিএম নজরুল ইসলাম।
গত ১৫ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
আইনমন্ত্রী বলেন, "সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেছি। প্রথম অধিবেশনেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনুরোধ করছি, অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কমিটিতে পাঠানো হোক এবং আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হোক।"
স্পিকার প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে তা পাস হয় এবং অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়।
অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৪; জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা আইন সংশোধন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ; শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী সংশোধন এবং জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা রহিতকরণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ। এছাড়া সরকারি চাকরি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট, ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক, ভোটার তালিকা, স্থানীয় সরকার, জাতীয় সংসদের নির্বাচন এলাকা সীমানা নির্ধারণ, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল, সিভিল কোর্টস, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস সংশোধনসহ একাধিক অধ্যাদেশ রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট দুটি অধ্যাদেশও তালিকায় রয়েছে—জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি তহবিল অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬।
এছাড়া মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক, বাংলাদেশ বেসরকারি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, বাংলাদেশ গ্যাস, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৬, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৬ এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ, ২০২৬-সহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কমিটিকে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
