বাবার মতো কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা ১২টা ২৪ মিনিটে তিনি কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় পৌঁছান। বেলা ১২টা ২৮ মিনিটে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দিতে বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে খালের পাড়ে একটি গাছও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধন শেষে খালপাড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে যোগ দেন তারেক রহমান। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং দিনাজপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে পড়া সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন করা হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। এতে স্থানীয় কৃষকরা উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
কাহারোল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব অলিউর রহমান টিবিএসকে বলেন, "এখানে ১২ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। খালের উজানে একটি সুইচগেট নির্মাণ করা হবে, যাতে শুকনা মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করা যায়। আশপাশের কৃষিজমিতে তখন এই খালের পানি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। খালের দুই পাড়ে ২৪ হাজার গাছ লাগানো হবে।"
তিনি আরও বলেন, "এখানে দুটি জলাশয় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেখানে পানি জমে থাকায় কৃষিকাজ করা যায় না। খাল খননের ফলে পানি দ্রুত সরে যেতে পারবে এবং ওই এলাকাগুলোতেও চাষাবাদ করা সম্ভব হবে। এই খালটি জগন্নাথপুর পর্যন্ত বিস্তৃত।"
"প্রায় ৪৭–৪৮ বছর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেখানে খাল খনন করেছিলেন। এতদিন পর তার ছেলে আবার এই খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছেন," বলেন তিনি।
শাহপাড়া থেকে খাল খনন কর্মসূচি দেখতে আসা বেলাল হোসেন বলেন, "একসময় এই খালটি অনেক বড় ও প্রশস্ত ছিল এবং এলাকার মানুষের নানা কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভরাট হয়ে এখন এটি প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন, খালটি পুনঃখনন করা হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ও কৃষিকাজে আবারও প্রাণ ফিরে আসবে।
