এখন থেকে নগদ সহায়তার অর্থ পেন্ডিং রাখা হবে না: পোশাক শিল্প মালিকদের গভর্নর
রপ্তানি খাতের জন্য সরকারের দেওয়া ক্যাশ ইনসেনটিভ বা নগদ সহায়তার অর্থ এখন থেকে আর পেন্ডিং রাখা হবে না বলে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর এমডি মোস্তাকুর রহমান।
বুধবার বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন বলে বিজিএমইএর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গভর্নরের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "এখন থেকে নগদ সহায়তার কোনো আবেদন পেন্ডিং রাখা হবে না। রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট নিরসনে প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সভায় বিজিএমইএ নেতারা সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোতে জমাকৃত স্থায়ী আমানত ও রপ্তানি মূল্যের অর্থ নগদায়ন করতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরেন। এর মধ্যে সাবেক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
তারা জানান, এ কারণে তারল্য সংকট তৈরি হচ্ছে এবং অনেক কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।
গভর্নর এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
প্রসঙ্গত, নতুন গভর্নর নিজেও এতদিন পোশাক শিল্প ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সভায় বিজিএমইএ নেতারা নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধি ও তা বহাল রাখার আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদল বিশেষ নগদ সহায়তার হার শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ, বিকল্প নগদ সহায়তার হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়।
তারা উল্লেখ করেন, প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ও নিয়মিত ছাড় করা না হলে অনেক কারখানা অচিরেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এছাড়া শিল্পকে সহায়তা দিতে প্যাকিং ক্রেডিটের সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা এবং এই তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে রপ্তানি ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা এবং এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণের সুপারিশ করা হয়।
সভায় বিজিএমইএর সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
