বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করব না, আবার না বুঝে কোনো সহযোগিতাও করব না: শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদকে দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ও অর্থবহ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘোষণা করেছেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে ১১ দলের সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনকে সামনে রেখে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা সকল বিষয়ে বিরোধিতা করব না, আবার না বুঝে কোনো সহযোগিতাও করব না। দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকার যে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেবে, সে সব ক্ষেত্রে আমাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। তবে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্তে আমরা আমাদের দায়িত্ব অনুযায়ী ভূমিকা পালন করব।"
সংসদে তাদের প্রতিবাদের ধরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, "প্রথমে আমরা ভুল ধরিয়ে দেব এবং সংশোধনের পরামর্শ দেব। যদি দেখি পরামর্শে কাজ হচ্ছে না, তবেই আমরা প্রতিবাদ করব। প্রতিবাদেও কাজ না হলে জনগণের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব।" তবে বিষয়টি সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই জাতির জন্য উত্তম হবে।
সাড়ে ১৫ বছরের নির্যাতন, গুম-খুন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "উই ওয়ান্ট জাস্টিস—জুলাই আন্দোলনের এই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আমরা সকল ক্ষেত্রে সুবিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চাই। ২০২৪-এর চেতনাকে অস্বীকার করলে ২০২৬-এর অস্তিত্বও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।" তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ বর্তমান প্রক্রিয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন, যা অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।
সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "এবারের নির্বাচন ছিল সংসদ ও সংস্কার—উভয় প্রক্রিয়ার পরিপূরক। আমরা অর্ডিন্যান্সের প্রতি সম্মান রেখে সংস্কার পরিষদ ও সংসদ সদস্য হিসেবে দুইবার শপথ নিয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, সরকারি দলের সদস্যরা এখনও প্রথম শপথটি (সংস্কার পরিষদ) গ্রহণ করেননি।" তিনি সরকারি দলকে জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।
প্রবাসীদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তিনি বলেন, "প্রবাসীরা আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। জুলাই আন্দোলনে তাদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছিল অনন্য।" প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং বিদেশে কোনো প্রবাসী মারা গেলে সরকারি ব্যয়ে লাশ দেশে আনার দাবি তারা আগেই তুলেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে লাশ আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই।
বিরোধীদলীয় নেতা আশা প্রকাশ করেন যে, স্পিকার সংসদে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন এবং বিরোধী দলকে যথেষ্ট সুযোগ দেবেন। একইসাথে দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
