‘এ প্রশ্ন আজকে কেন’—প্রথমবার শহীদ মিনারে যাওয়ার যে ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত আমির
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার একুশের প্রথম প্রহরে প্রথমবারের মত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এবারই প্রথম জামায়াতের কোনো আমির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানালেন। তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে এই শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ও পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মুক্তি পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আখতার হুসেইনসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যরা ছিলেন।
শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়েই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান মোনাজাত শুরু করেন। মোনাজাত করে বের হয়ে যাওয়ার সময় একজন সাংবাদিক শফিকুর রহমানকে প্রশ্ন করেন যে, জামায়াত সাধারণত ফুল দিতে আসে না শহীদ মিনারে, এবার কী মনে করে এলেন?
জবাবে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, 'এবার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে এখানে আসতে হবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে। তাই আমি এসেছি।'
শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে জামায়াত এখনো 'নাজায়েজ' মনে করে কি না—এমন প্রশ্ন আসে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে।
জবাবে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে শফিকুর রহমান বলেন, 'আপনি এই প্রশ্ন কেন আজকে করছেন। এইরকম একটা পবিত্র দিনে এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।'
পরে তিনি বলেন, 'আমরা আসলে ভাষা শহীদদের আগে ও ৪৭ এও যারা শহীদ হয়েছে তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহীদদের স্মরণ করি, একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণ করি। এরপরেও যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণ করি। বিশেষ করে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছে তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা স্মরণ করি যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছেন তাদের। ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি।'
এরপর জামায়াত আমির বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে তিন ভাষা শহীদদের কবরে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
