প্রসিকিউটর সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ তদন্ত করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে এক আসামিকে খালাসের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি জানান, পদত্যাগী প্রসিকিউটর সাইমুমম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা 'ঘুষের বিনিময়ে' এক আসামিকে খালাস করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হবে। এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি নিজেও সরাসরি অংশ নেবেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজ কার্যালয়ে ট্রাইব্যুনালের সব প্রসিকিউটরের সঙ্গে রুদ্ধদার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'প্রসিকিউটরদের দায়িত্ব পালনে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।'
তিনি জানান, প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের তিনি শুরু থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
ভবিষ্যতে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে সামান্য অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেলেও তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমের এক আইনজীবীর সঙ্গে এ বিষয়ে রেজা তালুকদারের কথপোকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়। যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে 'দৈনিক প্রথম আলো'। বিষয়টি নিয়ে প্রধান কৌঁসুলি এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, 'আজ সকালে এই নিউজ দেখার পর আমি সব প্রসিকিউটরদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিত থাকতে বলেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছি।'
তিনি বলেন, 'যে মামলার বিষয়ে এই নিউজে বলা হয়েছে, সেই মামলা যার কাছে ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে আমি তাকেও কল করেছিলাম। প্রাথমিকভাবে এই কেস সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'আরও অনেক বিষয় আছে। এগুলো আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, পাবলিকলি বলার কোনো সুযোগ নেই, বলতেও পারব না।'
এই ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের পুরো বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয় কী না-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমি আপনার সঙ্গে একমত। এরকম কিছু হলে অবশ্যই আমাদের ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমাদের ইমেজ সংকট হয়।'
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি আপনাদের একটু মনে করিয়ে দেই, আমার দ্বিতীয় (দায়িত্ব নেওয়ার পর) সাক্ষাৎকারে আপনাদের কাছে বলেছিলাম, আমার কর্মকালে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে যদি কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, আমি তাকে স্পেয়ার করব না।'
ফাঁস হওয়া অডিওর বিষয়ে তদন্ত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে যদি আমার কাছে ফরমাল অভিযোগ নাও আসে, আমি চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি করব।'
তিনি আরও বলেন, 'শুধু তাই না, এই ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পরের সব বিষয় আমি আমার অভ্যন্তরীণ একটা কমিটি গঠন করে তদন্ত করব।'
কোনো অনিয়ম পেলে তা তিনি তার কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করবেন বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমার যোগদানের আগের কোনো ঘটনা যদি থাকে, এটা অনলাইন মাধ্যম হোক, ফরমাল চার্জ হোক, সবগুলোর বিষয়ে আমি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে দেখব। যদি আমি তার বিন্দুমাত্র সত্যতা পাই, আমার যতটুকু ক্ষমতা আছে, সেই ক্ষমতা অনুযায়ী যেখানে সুপারিশ করার, আমি সুপারিশ করব।'
আগের প্রধান কৌঁসুলির সময়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, 'ওনার ব্যর্থতা-সফলতা আমি মূল্যায়ন করতে পারব না। এটা আপনারা সবাই, দেশবাসী মূল্যায়ন করবেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে পার্টিকুলার যে এলিগেশনটা আজকে উঠল, এই বিষয়ে আমাদের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর সাহেবের কী নলেজ আছে, উনি কতটুকু জানেন, কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, সে বিষয়ে আমরা তার সাহায্য চাইব।'
এই ধরনের অপরাধের বিচার ট্রাইব্যুনাল আইনে হবে নাকি প্রচলিত আইনে হবে- জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম জানান, শিগগিরই তারা বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসবেন।
তিনি বলেন, 'আমরা প্রসিকিউটর টিম বসেছি, আমরা একটা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই বিষয়ে আমাদের করণীয় কী হওয়া উচিত, আমরা সে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমি একটা বার্তা দিতে চাই, অতীতের সব কর্মকাণ্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আর ভবিষ্যতে আমাদের এখানে প্রসিকিউশনে যারা কাজ করতে চাইবেন, তাদের কাছে পরিষ্কার বার্তা— ভবিষ্যতে আমি যদি একটা সুতা পরিমাণ অভিযোগ যদি কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে পাই, তাহলে আপনি ধরে নেবেন পরের দিন তিনি আর আমার এখানে নাই।'
