ঘুষকাণ্ডে জড়িত দুই প্রতিষ্ঠানকে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির চুক্তি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন
চলতি মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির জন্য চুক্তি করেছে দুটি বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান। এই চুক্তি অস্বচ্ছ রয়েছে এমন অভিযোগ। এছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠানই এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত ঘুষ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ও দণ্ডিত হয়েছিল, যা আদালতের নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে। এতে দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ ও আইনপ্রণেতাদের সেই উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে যে, তেল বিক্রির এই ব্যবস্থাটি অপব্যবহারের ঝুঁকিতে রয়েছে।
জানুয়ারির শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ভিটল ও ট্রাফিগুরা-কে গোপন লাইসেন্স দেয়, যার আওতায় খুব সামান্য নজরদারির মধ্যে তারা ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করতে পারবে। এই লাইসেন্স দেওয়া হয় এমন এক সময়, যখন এক বছর আগে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন বিচার বিভাগের ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিসেস ইউনিট কার্যত ভেঙে দেয়—অথচ এই সংস্থাটিই ২০২০ ও ২০২৪ সালে এই দুটি কোম্পানি ও তাদের ট্রেডারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।
এসব লাইসেন্স বা অনুমোদন যে জ্বালানি চুক্তির অংশ হিসেবে দেওয়া হয়, সেটি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে গ্রহণে বাধ্য করে এক সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতের পর। এসব লাইসেন্সের মাধ্যমে ভিটল ও ট্রাফিগুরা ভেনেজুয়েলার রিজার্ভে থাকা কোটি কোটি ব্যারেল তেল কিনতে পারবে, যা নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন বিক্রি করা যাচ্ছিল না। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করবে, সেটিরও বাণিজ্য করার সুযোগ পাবে তারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই তেল বিক্রি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও এতে লাভবান হবে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ভিটলের একজন জ্যেষ্ঠ ট্রেডার ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণা সমর্থনকারী রাজনৈতিক কমিটিগুলোতে ৬০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। ভিটল জানিয়েছে, অনুদানটি ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়েছে, কোম্পানির পক্ষ থেকে নয়।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, এসব ঘুষ কেলেঙ্কারি ছিল জটিল ও রঙিন। এতে "জুতা" ও "কফি"র মতো সাংকেতিক শব্দ, ভুয়া প্রতিষ্ঠান এবং মেক্সিকো ও ইকুয়েডরের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির নামে ভুয়া চুক্তি ও চালান ব্যবহার করা হয়। ২০২৪ সালে ভিটলের এক ট্রেডার ঘুষের দায়ে দণ্ডিত হন—এর চার বছর আগে কোম্পানিটি মেক্সিকো, ইকুয়েডর ও ব্রাজিলের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে ১৩৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেয়। তবে এটিই ভিটলের একমাত্র আইনি বিড়ম্বনার ঘটনা নয়।
অন্য কোম্পানি ট্রাফিগুরা ব্রাজিলের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়া কোম্পানি ও অফশোর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে একটি ঘুষ পরিকল্পনা আড়াল করে, যার মাধ্যমে তারা ৬১ মিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল স্বীকারোক্তিমূলক চুক্তিতে কোম্পানিটি দোষ স্বীকার করে এবং মোট ১২৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়। এসময় কোম্পানির কিছু সম্পদও বাজেয়াপ্ত করা হয়। এটি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের মধ্যে একটি। গত বছর সুইজারল্যান্ডে তেল চুক্তির বিনিময়ে অ্যাঙ্গোলার এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়, যার বিরুদ্ধে বর্তমানে তারা আপিল করছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা পাবলিক আইয়ের বিশ্লেষক রবার্ট বাখমান বলেন, "ট্রাম্প এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগাচ্ছেন, যারা জানে কীভাবে নিয়ন্ত্রকব্যবস্থা এড়িয়ে চলতে হয়। আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাদের ধাওয়া করত, কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের কাছে সেটি গুরুত্ব পাচ্ছে না।"
এবিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্টকে ইমেইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভিটল জানায়, ২০২০ সালের ফেডারেল ডিফার্ড প্রসিকিউশন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তারা দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে, যার ফলে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। কোম্পানিটি দাবি করে, "ভিটল সব প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করে। ভিন্ন কোনো ইঙ্গিত সঠিক নয়।"
ট্রাফিগুরা ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্তারিত প্রশ্নের জবাব দেয়নি। তবে চলতি মাসের শুরুতে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা "যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুরোধে" ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি সহজতর করতে সহায়তা করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের তিন বৃহত্তম তেল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকা ভিটল ও ট্রাফিগুরারই দ্রুত এবং জটিল এই লেনদেন সম্পন্ন করার মতো সক্ষমতা ও সম্পদ রয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটি আগাম ৫০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে এবং সেই আয়ের অংশ ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পৌঁছেছে, যা দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে ও নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যবহার হবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স ইমেইলে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাহসী পদক্ষেপ ও দৃঢ় নেতৃত্ব না থাকলে ভেনেজুয়েলা এখনো 'মাদক-সন্ত্রাসী' মাদুরোর নিয়ন্ত্রণে থাকত এবং দেশটির তেল আমাদের বিদেশি প্রতিপক্ষদের অর্থায়ন করত। ঐতিহাসিক যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা জ্বালানি চুক্তি দেশটিতে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করবে।"
ক্যারিবীয় অঞ্চলে ট্রাফিগুরা ও ভিটলের বিদ্যমান ট্যাংকার ও সংরক্ষণ অবকাঠামো থাকার কারণেই দ্রুত ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনে তারা স্বাভাবিক পছন্দ হয়ে ওঠে বলে মার্কিন সরকারের ও তেল শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের লাতিন আমেরিকা এনার্জি প্রোগ্রামের পরিচালক ফ্রান্সিসকো মনালদি বলেন, "স্বল্প সময়ে ৩ থেকে ৪ কোটি ব্যারেল তেল বরাদ্দ দেওয়ার সক্ষমতা খুব কম কোম্পানিরই আছে। তাই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি জটিল সমস্যার সহজ সমাধান।"
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, চুক্তি অনুযায়ী অন্তত অর্ধেক ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে হবে। বাকি তেলের বড় একটি ভাগ ভারত ও অন্যান্য এশীয় বাজারে যাবে বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
ঘুষ কেলেঙ্কারির বাইরে, ট্রাফিগুরা ২০২৪ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যবাজার নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে একটি পৃথক মামলায় ৫৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়। অভিযোগ ছিল, তারা গোপন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবহার করে পেট্রোলের মূল্য সূচকে কারসাজি করেছে এবং সম্ভাব্য হুইসেলব্লোয়ারদের বাধাগ্রস্ত করেছে। পরের মাসে ভিটল ও আরেকটি প্রতিষ্ঠান ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের আনা অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে ৫০ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়—যেখানে বলা হয়, তারা ক্যালিফোর্নিয়ার স্পট মার্কেটে পেট্রোলের দাম কারসাজিতে গোপনে একসঙ্গে কাজ করেছে।
ভেনেজুয়েলা চুক্তি থেকে এই দুই কোম্পানি কতটা লাভ করতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে পাওয়া ভিটলের লাইসেন্স নথি অনুযায়ী, সম্ভাব্য মুনাফা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। লাইসেন্সে ভেনেজুয়েলার তেলের পাশাপাশি লৌহ আকরিক ও কৃষিপণ্যের মতো অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ বাণিজ্যের অনুমতিও রয়েছে। লাইসেন্সটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
পোস্টকে পাঠানো এক ইমেইলে ভিটল নিশ্চিত করেছে, চুক্তিটি তেলের বাইরে অন্যান্য "প্রাকৃতিক সম্পদ"ও অন্তর্ভুক্ত করে। তবে লাইসেন্স ও ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির সঙ্গে তাদের চুক্তি—উভয়ই গোপনীয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, তেলের অর্থ কাতারের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিচ্ছে ভিটল ও ট্রাফিগুরা। এই কাঠামোর ফলে ভেনেজুয়েলা ও তার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে যেসব পাওনাদারের মামলা ঝুলে আছে, তাদের হাত থেকে অর্থ সুরক্ষিত থাকতে পারে—যা ৯ জানুয়ারি ট্রাম্প স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, এসব অর্থ ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে; যদিও অর্থছাড়ের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ট্রাম্পের হাতে। তাঁদের দাবি, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার জ্বালানি চুক্তিতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সহযোগিতা করায় প্রথম দফার তেল বিক্রির অর্থছাড়ের শর্ত পূরণ হয়েছে।
গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলা তেল বিক্রি থেকে প্রথম ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এই লেনদেন সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিরা জানান, এই তহবিল চারটি অনুমোদিত বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে মূলত খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী আমদানিকারকদের সরাসরি দেওয়া হয়। দুর্নীতি ঠেকাতে ক্রেতাদের ট্রেসযোগ্য অ্যাকাউন্টসহ 'সুইফট কোড' থাকতে হয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা জানান, কাতারের দূতরা ভেনেজুয়েলা সরকার ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সংলাপ সহজ করতে কাজ করেছেন। তাঁরা উভয় পক্ষের আস্থা অর্জন করেছিলেন।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির আয়ের একটি অংশ নিতে পারে। তবে প্রাথমিক বিক্রির ক্ষেত্রে এমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। হোয়াইট হাউস বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এমন নিয়ম আরোপে, যাতে ভেনেজুয়েলার জীর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো পুনরুজ্জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো চুক্তি পায়, এবং দেশটির তেল উত্তোলনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রাধিকার পায়।
কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের ফেলো ও হোয়াইট হাউসের সাবেক উপদেষ্টা পিটার হ্যারেল বলেন, অন্য দেশের তেল বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ও অর্থ অফশোর অ্যাকাউন্টে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নজিরবিহীন নয়। ২০০০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ইরাকের তেল বিক্রি সহজ করেছিল; তারও আগে ১৯৯০-এর দশকে জাতিসংঘের 'তেলের বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি ছিল ইরাকের জন্য। তিনি বলেন, "এই ধরনের ব্যবস্থার আশপাশে দুর্নীতির কেলেঙ্কারি দেখা দেওয়ার নজিরও রয়েছে।"
এমন বাস্তবতায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা—উভয় দেশেই চুক্তিটি ঘিরে গোপনীয়তা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও অর্থনীতিবিদ হোসে গুয়েরা বলেন, "তেল আমাদের, কিন্তু আমরা কিছুই জানি না। কোনো স্বচ্ছতা নেই। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে একটি সার্বভৌম দেশ তেল বিক্রি করলে ব্যারেলের পরিমাণ ও দাম প্রকাশিত হয়, এবং অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যায়। এখন আমরা কিছুই জানি না।"
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় অর্থ ছাড়ের ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ হোয়াইট হাউসকে 'সুবিধা' দিচ্ছে, যাতে তেল বাজারে ফিরলেও তার আয় 'মাদক-সন্ত্রাস' বা 'মাদক পাচারে' ব্যবহৃত না হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি পরিষদ বা কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই চুক্তি নিয়ে আরও জবাবদিহির দাবি তুলেছেন।
মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের ব্যাংকিং কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এক বিবৃতিতে বলেন, "ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত কোনো নজরদারি ছাড়াই অন্য দেশের তেলের আয় বাছাই করা অ্যাকাউন্টে প্রবাহিত করছে। কংগ্রেস ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলার তেলের মুনাফা নিজের ব্যক্তিগত তহবিল হিসেবে ব্যবহার করতে দিতে পারে না।"
ওয়ারেনসহ আরও চারজন সিনেটর ১৫টি বড় মার্কিন ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়ে তদন্ত শুরু করেছেন—এর মধ্যে জেপি মরগ্যানও রয়েছে—এই চুক্তি বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সহায়তা চেয়েছিল কি না তা জানতে। ওয়াশিংটন পোস্ট পর্যালোচনা করা লাইসেন্সে ভেনেজুয়েলার তেল, ধাতু ও কৃষিপণ্য কেনাবেচায় জেপি মরগ্যানের সম্পৃক্ততার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটি এনিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এই তেল বিক্রি শুরু হয়েছে এমন এক মার্কিন অবরোধের পর, যা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়ে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিক্রি কার্যত অচল করে দেয়। পরিস্থিতির এমন অবনতি হয় যে, ভেনেজুয়েলার সব সংরক্ষণাগার ভরে যাওয়ায় কিছু কূপ বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আর একবার তেলক্ষেত্রের কূপ বন্ধ হয়ে গেলে, তা ফের চালু করা বেশ ব্যয়বহুল এবং কঠিন কাজ।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে ট্রাফিগুরা ও ভিটলের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সুযোগ অন্য ক্রেতাদেরও দেওয়া হবে। তবে এখনো নতুন লাইসেন্স দেওয়ার কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই, যা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে হতাশ করছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং কোনো লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। আমরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখার বা দরকষাকষি করার সুযোগও পাচ্ছি না।"
